নারায়ণগঞ্জে আলোচিত ৭ খুনের দুটি মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ পড়ে শোনানো শেষ হয়েছে। আদালতের কার্যক্রম চলার পর যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য আগামী ২১ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে ১৯ আসামিকে অভিযোগ পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন। এর মধ্যে ১৪ জন নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আত্মপক্ষ সমর্থনে কোন সাফাই সাক্ষী বা লিখিত বক্তব্য না দিয়ে বিচারকের কাছে ন্যায় ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত আদালতের কার্যক্রম চলার পর যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য আদালত আগামী ২১ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।সকাল সাড়ে ৯টায় ১৯ আসামির উপস্থিতিতে তাদের বিরুদ্ধে অন্যান্য আসামির জবানবন্দি ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে উত্থাপিত অভিযোগ পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন। তারা হলেন- র্যাব সদস্য এস আই পূর্ণেন্দু বালা, এএসআই বজলুর রহমান ও আবুল কালাম আজাদ, হাবিলদার এমদাদুল হক ও নাসির উদ্দিন, কনস্টেবল শিহাব উদ্দিন ও বাবুল হাসান, আরওজি-১ আরিফ হোসেন, ল্যান্স নায়েক হীরা মিয়া, বেলাল হোসেন, ল্যান্স কর্পোরাল রুহুল আমিন, সিপাহি আবু তৈয়্যব, নুরুজ্জামান ও আসাদুজ্জামান নূর এবং নূর হোসেনের সহযোগী মোর্তুজা জামান চার্চিল, আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান দীপু, রহম আলী ও আবুল বাশার। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত, পরস্পর যোগসাজশ ও অর্থের বিনিময়ে অন্যান্য র্যাব সদষ্যের সহায়তায় সাতজনকে অপহরণ, হত্যা ও মরদেহ গুম করার অভিযোগ আনা হয়। তবে এসব আসামির মধ্যে প্রথম ৯ জন নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন এবং কোন সাফাই সাক্ষী দেবেন না বলে জানান। তবে নূর হোসেনের পাঁচ সহযোগী দাবি করেন, তাদের ক্রসফায়ারের ভয় ও নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে সাক্ষ্য আদায় করেছে। তারা নূর হোসেনের চাকরি করে না। ৫ আসামি সিপাহী আবু তৈয়ুব, কস্টবল শিহাব উদ্দিন, হাবিলদার এমদাদুল হক, সৈনিক আসাদুজ্জামান নুর ও এএসআই বজলুর রহমান তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন আদালতকে বলেন, যেহেতু ১২ আসামি পলাতক তাই তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ পড়ে শোনানো গেল না। আদালত আইনের বিধান অনুযায়ী এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। এর আগে ২৪ অক্টোবর প্রধান ৪ আসামি নূর হোসেন, র্যা ব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক লে. কর্নেল (অব) তারেক সাঈদ মুহাম্মদ, মেজর (অব) আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার (অব) মাসুদ রানাকে দণ্ডবিধি ৩৪২ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়। সাত খুনের দুটি মামলার চার্জশিটে অভিন্ন ৩৫ জন করে আসামি। এর মধ্যে ২৩ জন গ্রেফতার ও ১২জন পলাতক রয়েছে।মো. শাহাদাত হোসেন/এএম/এবিএস