স্বাধীনতা যুদ্ধে স্বামী হাবিবুর রহমান ও মেয়ে হাসিনা খাতুনকে হারিয়েছেন ঝিনাইদহ শহরের কাঞ্চনগর পাড়ার বীরঙ্গনা জয়গুন নেছা। পাক সেনারা তাদের ধরে নিয়ে গিয়ে আর ফেরৎ দেয়নি। নিজের উপর পাক বাহিনীর পাশবিক নির্যাতন ও বর্বরতার সেই নিকষকালো মুহুর্তগুলোর কথা মনে হলে গা শিউরে ওঠে তার। যুদ্ধ শেষে স্বামীর কেনা ভিটাবাড়িও দখল করে নিয়েছেন সুন্দর আলী নামে এক ব্যক্তি। এতকিছুর পরও এই বীরঙ্গনার কপালে মেলেনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি। পান না কোনো সরকারি সুযোগ সুবিধা। একমাত্র সম্বল ছিল চাকরির পেনশন, তাও বিক্রি করে মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। এভাবেই নিজের চেপে থাকা কষ্টের কথাগুলো বললেন বীরঙ্গনা জয়গুন নেছা।তিনি আরও জানান, নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা প্রমাণে এই বৃদ্ধ বয়সে সার্টিফিকেট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ছুটছেন এ অফিস থেকে সে অফিস। সব বিফলে গেছে। জয়গুন নেছার কাছে থাকা কাগজপত্র থেকে জানা গেছে, তিনি পাক বাহিনীর হাতে নির্যাতিত একজন নারী। পরে তিনি যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন। যুদ্ধ করেন ৮নং সেক্টরে। যুদ্ধের আগে তিনি ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজে চাকরি করেন। দেশ স্বাধীনের পর তিনি মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চাকর করতেন। যুদ্ধকালীন তার উপর রাজাকার ও পাক বাহিনী ব্যাপক নির্যাতন করেছেন। সেই স্মৃতি এখনো পীড়া দেয় জয়গুন নেছাকে। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের (অন্তর্ভূক্ত) প্রশাসনিক কর্মকর্তা খোন্দকার নুরুল ইসলাম ও তত্ত্ববধায়ক এম এ আব্দুল ওহাব সাক্ষরিত তালিকায় তার নাম রয়েছে ১৭ নং ক্রমিকে। ২০১০ সালের ২৫ মে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ৪৮৮ জন মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রণয়ন করে ঢাকায় পাঠানো হয়। সেই তালিকায় জয়গুন নেছার নাম রয়েছে ১৭১ নং ক্রমিকে। জয়গুন নেছা যে একজন মুক্তিযোদ্ধা আবেদন পত্রে মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসন, আব্দুল মজিদ, লুৎফর রহমান ও পরিতোষ ঘোষ সাক্ষিও দিয়েছেন।ঝিনাইদহ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আলহাজ্ব মো. কামালুজ্জামান বলেন, জয়গুন নেছা একজন স্বীকৃতি প্রাপ্ত মৃক্তিযোদ্ধা এতে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি বলেন, আমি জয়গুন নেছার কাগজপত্র নিজে সচিব মহোদয়ের কাছে দিয়েছি। হওয়ার কথাও ছিল। কিন্ত জয়গুন নেছার নাম তালিকায় ওঠেনি।আহমেদ নাসিম আনসারী/এফএ/এমএস