দেশজুড়ে

শীতের আগমনে ব্যস্ত ধুনকেরা

ঝালকাঠিতে শীতের আগমনী বার্তা উপলক্ষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন লেপ-তোশক তৈরির কারিগর ধুনকেরা। প্রতিদিন গড়ে ১০-১২টি লেপ-তোশক তৈরি করতে হচ্ছে তাদের। এ বিষয়ে কথা হয় ধুনক সাইদুল ইসলামের সঙ্গে। সাইদুল ইসলাম জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা তিন দিনের বৃষ্টির পরে রোববার সকাল থেকে বৃষ্টি কমেছে। কিন্তু রাতে প্রচণ্ড শীত পড়ায় লোকজন শীতবস্ত্রের প্রতি ঝুঁকছে। আর তাই আমাদের কাছে আসছে লেপ-তোশক তৈরি করতে। সাইদুল আরো জানান, তুলা ও কাপড়ের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় গত বছরের চেয়ে এ বছর খরচও বেশি হচ্ছে। শিমুল তুলা প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। কাপাস তুলা প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। গার্মেন্টসে তৈরি তুলা প্রতি কেজি কালো হুল ৫০-৬০ টাকা, কালো পচা তুলা ২৫-৩০ টাকা, সাদা তুলা ৭০-৮০ টাকা দরে ক্রয় করি। এছাড়া তৈরি কাপড়ের গজ মান অনুযায়ী ৪০ থেকে ৬০ টাকা। আকারভেদে মজুরিও ২০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত রাখা হয়। সব মিলিয়ে মোটামুটি ভালো মানের একটি লেপ তৈরিতে ১৫০০ (দেড় হাজার) টাকা খরচ হয়। একইভাবে একটি তোশক তৈরিতে খরচ পড়ে ২৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা। তবে গত বছরের থাকা মালপত্র দিয়ে এ বছরের কাজ এখন পর্যন্ত চলছে। নতুন মাল এলে তার দাম এর চেয়ে অনেক বাড়তি হবে। তখন একটি লেপ তৈরিতে খরচ পড়বে ২ হাজার টাকা এবং তোশক তৈরিতে খরচ পড়বে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। অভিযোগ করে সাইদুল বলেন, আমরা খুচরা বিক্রেতা। পাইকারদের থেকে মাল কিনে এনে তৈরি করে ক্রেতাকে দেই। দাম বৃদ্ধির বিষয়টা তারা বুঝতে পারেন না। এজন্য অনেক সময় ক্রেতাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটিও হয়। মূলধন স্বল্পতার কথা জানিয়ে সাইদুল বলেন, আমরা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। প্রথমে দোকানের কর্মচারী থেকে কাজ শিখে এখন নিজেই দোকান দিয়েছি। একটি এনজিও থেকে ১৫ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছি। সরকার মৌসুমভিত্তিক ঋণের ব্যবস্থা করলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বাবলম্বী হতে সহায়তা হতো। এফএ/পিআর