ঝালকাঠি শহরের কালিবাড়ি মন্দির কমিটি ও তৎসংলগ্ন ব্যবসায়ীদের জমি নিয়ে দ্বন্দ্বে মন্দিরে হামলা হয়েছে। এতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এসআইসহ চার পুলিশ সদস্য ও আরো ৬ জন আহত হয়েছেন। বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় জেলা শহরে কালিবাড়ি মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম জানা যায়নি। তাদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।এ ঘটনার পর ঝালকাঠির পুলিশ সুপার মো. জোবায়েদুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রকিব, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদ হাসান, সদর থানার ওসি মাহে আলম, ডিবি ওসি কামরুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বরিশাল র্যাব-৮ এর একটি টিমসহ ঝালকাঠির পুলিশ ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মন্দির কমিটি ও মন্দিরসংলগ্ন বারচালার চাল ব্যবসায়ীদের মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘ দিনের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। কালিবাড়ি মন্দিরের মধ্যে দিয়ে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের যাতায়াতের একটি পথ ছিল। কার্তিক পূজার শেষপর্যায়ে সেই পথটি টিনের বেড়া দিয়ে আটকিয়ে দেয়ার ফলে ব্যবসায়ীদের যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে যায়।এক পর্যায়ে বুধবার রাতে ব্যবসায়ী দুলাল নাথ, দুলাল দেবনাথ, আব্দুল হকিম ও গোপাল টিনের বেড়া ভেঙে ফেলে। এসময় পূজারীরাও তাদের প্রতিহত করলে সংঘর্ষ বাঁধে। উভয় পক্ষের ইটপাটকেল নিক্ষেপে ৫/৬ জন পূজারী ও সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে রাতে টহলে থাকা এসআই শাহাদাতসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হয়। এতে কার্তিক প্রতিমার মুণ্ডু ভেঙে যায়।ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব জানান, মন্দির কমিটি ও বারচালার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল। রাতে মন্দিরে পূজা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্তত ২০ জন লোক ইট নিক্ষেপ করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ চেষ্টা করলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করেও ইট ছুড়তে থাকে। এক পর্যায়ে পুলিশের ধাওয়ায় তারা পালিয়ে যায়।কালিবাড়ি মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রণব কুমার নাথ ভানু জানান, মন্দিরের পাশের দোকান মালিকদের সঙ্গে একটি মামলা চলছে, এ কারণে তারা এই হামলা চালাতে পারে। এ ব্যাপারে আজ সকাল ১০টায় মন্দির কমিটির জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে।ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম বলেন, রাত সাড়ে ১০টায় কার্তিক পূজা শেষের দিকে আমাদের আটকিয়ে দেয়া হয়েছে। বের হওয়ার জায়গা না থাকায় টিনের বেড়া খোলা হলে মন্দির কমিটি আমাদের উপরে হামলা চালায়। আমরা তাদের প্রতিহতের চেষ্টা করলে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে ব্যবসায়ীদের প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।মো. আতিকুর রহমান/বিএ