গাইবান্ধার সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমির অবৈধ দখলদার ভূমিদস্যুদের প্রধান শাহজাহান আলী ও ফিলিমন বাস্কেসহ সকল দখলকারী সন্ত্রাসীকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও খামারে নির্বিঘ্নে ইক্ষুচাষ কার্যক্রম পরিচালনার পরিবেশ তৈরির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন। বুধবার বিকেলে গোবিন্দগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রংপুর চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী সংগঠনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মতিন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, খামারের জমির লিজগ্রহীতা শাহজাহান, তার ছেলে ও ফিলিমন বাস্কেসহ কতিপয় চিহ্নিত ভূমিদস্যুরা লিজ বাতিলের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে নিরীহ সাঁওতালদের ভূল বুঝিয়ে একটি অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। পাঁচ মাস ধরে তারা চিনিকলের খামারের জমি দখল করে একটি সংরক্ষিত এলাকা গড়ে তুলে সেখানে বিভিন্ন প্রকার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল।চিনিকলের খামারের অফিসে বারবার তির-ধনুকসহ বিভিন্ন দেশি অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা করে লুটপাট ও কোটি কোটি টাকার সম্পদ ধ্বংস করে। এমনকি সেখানে স্থাপিত অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে পুলিশের একটি শর্টগান পর্যন্ত লুট করে নিয়ে যায়। এলাকার লোকজন বা গরু-ছাগলও খামারের জমিতে ঢোকা বারণ করে তারা। এছাড়া এলাকাবাসীকে মারপিট, চাাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অত্যাচারকেও ছাড়িয়ে গেলে এলাকার লোকজন তাদের ওপর বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে ৬ নভেম্বর চিনিকলের শ্রমিকরা তাদের চাষকৃত জমিতে আখবীজ কাটতে গেলে তাদের উপর তির-ধনুক নিয়ে আক্রমণ করে সাঁওতালরা। শ্রমিকদের রক্ষায় পুলিশ এগিয়ে এলে তারা পুলিশের উপরও একই কায়দায় আক্রমণ করে। এ সময় ৯ পুলিশসহ ১৫ জন তিরবিদ্ধ হলে এলাকার শতশত মানুষ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সংবাদ সম্মেলনে আরো উল্লেখ করা হয়, এ ঘটনায় লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে অবৈধ দখলদারদের হটিয়ে দিলে খামারের জমি দখলমুক্ত হয়। কিন্তু সেদিনের প্রকৃত ঘটনাটিকে ধীরে ধীরে ভিন্নরূপ দিতে থাকেন কতিপয় মানবাধিকার সংগঠন। তারা মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করে কিছু গণমাধ্যমকে বিভ্রান্ত করে তা প্রচার করে। এতে দেশবাসী প্রকৃত ঘটনা থেকে দূরে থাকে। তাই প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করে দেশবাসীকে অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আনার জন্য সংবাদকর্মীদের প্রতি আবেদন জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান দুলাল ও চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মো. নাজমুল হুদা। জিল্লুর রহমান পলাশ/এএম/এমএস