নানা নাটকীয়তার পর অবশেষে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার তিন শুল্কবন্দর (বড়ছড়া, চারাগাঁও-বাগলী) দিয়ে কয়লা আমদানি শুরু হয়েছে। আর এ কয়লা আমদানির খবরে বন্দরসংশ্লিষ্টদের মধ্যে উৎফুল্ল দেখা দিয়েছে। বুধবার দুপুরে ওপার থেকে দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ডিপোতে কয়লাবোঝাই ট্রাক প্রবেশ করা শুরু করেছে। তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি আলহাজ আলকাছ উদ্দিন খন্দকার ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক আবুল খায়ের আমদানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।এর আগে ১ নভেম্বর থেকে আমদানি কার্যক্রম চালুর কথা থাকলেও নানা নাটকীয়তায়, তা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালের (এনজিটি) রায়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় রফতানিকারকেরা সে দেশের উচ্চ আদালতে আপিল করলে উত্তোলিত কয়লা রফতানির জন্য আট মাস সময় বাড়িয়েছেন আদালত, যা ১ নভেম্বর থেকে বলবৎ থাকবে। এদিকে, বছরের পর বছর এই তিন শুল্কবন্দর বন্ধ থাকায় অর্ধাহারে-অনাহারে দিনযাপন করে অবশেষে কাজের সন্ধানে শহরপানে ছুটে যাওয়া অধিকাংশ শ্রমিক পরিবার। বিপাকে পড়েন বন্দরের আট শতাধিক আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট অর্ধ লক্ষাধিক শ্রমিক পরিবার।সূত্র জানায়, দেশের অন্যতম এই তিন বন্দরে গত দুই অর্থ-বছর ধরে আমদানি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় রাজস্ব আদায়ে ভাটা পড়ে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সরকার লক্ষ্যমাত্রার অধিক মুনাফা আদায় করলেও দুই অর্থ-বছর ধরে রাজস্ব আদায় রয়েছে শূন্যের কোটায়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য নজির হোসেনের প্রাণান্ত চেষ্টায় ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বড়ছড়া শুল্কবন্দর দিয়ে প্রথমে কয়লা আমদানি শুরু হয়। প্রতি বছর সরকারি কোষাগারে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের দ্বিগুণ রাজস্ব জমা পড়তে থাকলে পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে চারাগাঁও এবং বাগলী (বিরেন্দ্রনগর) এলাকা দিয়ে কয়লা-চুনাপাথর আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়। এই তিন শুল্ক বন্দর দিয়ে বর্তমানে আট শতাধিক আমদানিকারক রয়েছেন। আর পরিবহন কাজে জড়িত রয়েছেন অর্ধ-লক্ষাধিক শ্রমিক।প্রসঙ্গত, ভারতের মেঘালয়ের পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ডিমাহাসাও’ জেলা ছাত্র ইউনিয়নের আবেদনের ভিত্তিতে ২০১৪ সালের ১৭ এপ্রিল ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি) মেঘালয়ে কয়লা খনন ও পরিবহন বন্ধের নির্দেশ দেন। একই বছরের ৬ মে সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভাগীয় মুখ্যসচিব এ ব্যাপারে প্রতিটি জেলায় নির্দেশ জারি করেন। ফলে ১৩ মে থেকে মেঘালয় সীমান্ত জেলাগুলোতে ১৪৪ ধারা জারি করে কয়লা পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এরপর থেকে বন্ধ হয়ে যায় সুনামগঞ্জের তিনটি শুল্কবন্দরসহ সিলেট ও ময়মনসিংহের সব শুল্কবন্দরের আমদানি কার্যক্রম। পরবর্তী সময়ে রফতানিকারকেরা আইনি লড়াই করে প্রথমে উত্তোলিত কয়লার রাজস্ব জমা দিয়ে তিন মাস (এপ্রিল, মে ও জুন) রফতানির সুযোগ পায়।সর্বশেষ গত বছরের ১৬ মে থেকে কয়লা রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। এ ফাঁকে অপেক্ষাকৃত উন্নতমানের মেঘালয়ের কয়লা আমদানি বন্ধ থাকায় দেশের বাজার দখল করে নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া, চীন ও আফ্রিকার কয়লা।রাজু আহমেদ রমজান/এআরএ/এনএইচ/আরআইপি