দেশজুড়ে

যমুনায় ধরা পড়ল ৩ মণ ওজনের শুশুক

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর কুতুবপুর ঘাট এলাকায় জেলেদের জালে ধরা পড়েছে তিন মণ ওজনের বিরল প্রজাতির জলজপ্রাণী শুশুক।শনিবার দুপুর ২টার দিকে ধুনট পৌর বাজারের মাছের আড়ৎদার রবিন হাওয়ালদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোর রাতে যমুনা নদীতে মাছ শিকারে নামেন সারিয়াকান্দি উপজেলার দেবডাঙ্গা গ্রামের জেলে রহিম উদ্দিন। বিভিন্ন জাতের মাছে সঙ্গে রহিমের জালে ধরা পড়ে তিন মণ ওজনের শুশুক। জালে ধরা পড়া শুশুকটি দেখে প্রথমে ভয় পেলেও কৌশলে জাল টেনে হেচড়ে নৌকায় তোলেন রহিম ও তার সহযোগী জেলেরা। এরপর শনিবার দুপুরে ভ্যানে তুলে শুশুকটি ধুনট পৌর বাজারে বিক্রির জন্য আনা হয়। তিনি ৫ হাজার টাকা দাম চাইলেও দর কষাকষির এক পর্যায়ে গোসাইবাড়ি গ্রামের ছোবাহান চৌধুরী নামে এক কবিরাজ শুশুকটি তিন হাজার টাকায় কিনে নেন। শুশুকের ক্রেতা ছোবাহান চৌধুরী বলেন, শুশুকের তেলে ওষুধি গুণ রয়েছে। তাই তেল তৈরির জন্য এ শুশুকটি তিন হাজার টাকায় কিনেছেন তিনি। শুশুকের তেল গরু, মহিষ কিংবা মানুষের শরীরে আঘাত জনিত ব্যাথানাশকের জন্য ব্যবহার করা হয়। বণ্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বাধীন জীবন-এর নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক নাছিম বলেন, জলবায়ুর বিরুপ প্রভাবে জলাশয়গুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। তাই শুশুকসহ অনেক জলজপ্রাণী বিলুপ্তের পথে। এই শুশুক শিকার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তারপরেও জেলেরা না বুঝে এই অপরাধ করছে।ধুনট উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান বলেন, শুশুক এক ধরনের জলজপ্রাণী। এরা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। তাই শুশুক ধরা বা মারা সরকারিভাবে নিষেধ রয়েছে। এ বিষয়টি দেখার দায়িত্ব পরিবেশ অধিদফতরের বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, এর আগে ধুনটে যমুনা নদীর ঠিক একই পয়েন্ট থেকে ৬০ ও ৩০ কেজি ওজনের দুটি বাঘাইড় মাছ এবং ১৫ কেজি ওজনের একটি বোয়াল মাছ ধরা পড়ে জেলেদের জালে।লিমন বাসার/আরএআর/আরআইপি