যশোরের শার্শায় কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নবম শ্রেণির ভোকেশনাল সমাপনী পরীক্ষায় নকলের মহোৎসব শুরু হয়েছে। সোমবার অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের সামনেই প্রকাশ্যে নকলে মেতে উঠে। সকালে শার্শা পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।সরেজমিনে দেখা যায়, সেখানে পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালন করছেন একজন শিক্ষক। প্রায় সব পরীক্ষার্থীর সঙ্গে রয়েছে স্কুল ব্যাগ। তারা ওই শিক্ষকের সামনেই অবাধে বই দেখে দেখে লিখছে। অথচ এ পরীক্ষার গুরুত্ব কোনো অংশে কম নয়। পরবর্তীতে এ পরীক্ষার ২৫% মার্ক এসএসসি বোর্ড পরীক্ষায় যোগ হবে। শার্শা উপজেলার তিনটি স্কুলের পরীক্ষার্থীদের নিয়ে একটি কেন্দ্র করে সেখানে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এদিকে, এ পরীক্ষায় নিজের প্রতিষ্ঠান বা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠান সমূহের কোনো শিক্ষক ওই কেন্দ্রের অভ্যন্তরীন ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না, বাংলাদেশ কারিগরী শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক এমন নির্দেশনা থাকলেও সেটা মানা হয়নি। নিজ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের পরীক্ষার দায়িত্ব দিয়েছেন কেন্দ্র সচিব কামরুজ্জামান। এসব অনিয়মের ফলে অবাধে পরীক্ষার্থীরা নকলের সুযোগ পাচ্ছে।কেন্দ্র সচিব উপজেলা নির্বাচন অফিসার কামরুজ্জামান জানান, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নতুন কোনো নির্দেশনা তিনি হাতে না পাওয়াতে পূর্বের নিয়মে নিজেদের ও কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের পরীক্ষায় দায়িত্ব দিয়েছেন। তবে শিক্ষকের উপস্থিতিতে নকলের বিষয়ে কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেন নি।এ ব্যাপারে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুস সালাম জানান, নকলমুক্ত শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে তিনি শার্শায় আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। মো. জামাল হোসেন/আরএআর/পিআর