যশোরে অতিবর্ষণে ক্ষতির পরও আমনের ভাল ফলন হয়েছে। তবে দাম নিয়ে শঙ্কিত কৃষক। কারণ বাজারে ধানের সরবরাহ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমছে দাম। তাই কৃষকের সোনালী ধানের হাসি বাজারে এসে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। কোনোভাবেই ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না কৃষকরা। যশোর আঞ্চলিক কৃষি অফিস সূত্র জানিয়েছে, এবছর যশোরাঞ্চলের ৬ জেলায় রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ২০ হাজার ৭৫৩ হেক্টর। আবাদ করা হয় ৪ লাখ ৮ হাজার ৪১৫ হেক্টর। আমন রোপনের সময়ই অতিবর্ষণের কারণে ১৯ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমির ধানের চারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারপরও কৃষকরা হাড়ভাঙা খাটুনি করে ভালো ফসল উৎপাদন করেছেন। কিন্তু কৃষকের সেই সোনালী ধানের হাসি বেশি সময় স্থায়ী হচ্ছে না। এর কারণ বাজার পরিস্থিতি মন্দ।যশোর সদর উপজেলার হাশিমপুরের কৃষক সাইদুর রহমান জানান, আড়তে ধান যতো বেশি আসছে, দাম তত পড়ছে। প্রথমদিকে যে দাম পাওয়া যাচ্ছিল, দিনকে দিন তা কমছে। গত তিন দিনে দাম কমেছে প্রায় ১০০ টাকা। এভাবে দর পড়তে থাকলে খরচ উঠানো কঠিন হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ধান উঠার শুরুতেই তিনি ১৫ মণ বিক্রি করেছিলেন। তখন দাম পেয়েছেন ৮৫০ টাকা দরে। এখন সেই ধানের দাম ৭৬০-৭৭০ টাকা মণ। আরেক কৃষক সদর উপজেলার খোলাডাঙ্গা এলাকার বরকত আলীও জানালেন বাজার দর নিয়ে হতাশার কথা। তিনি বলেন, জমিতে লাঙল দেয়া, আইলবান্ধা, বীজ, সার, সেচ, ধানকাটা, মাড়াই-মজুরি ও যন্ত্রপাতি বাবদ প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে ৯ হাজার টাকার বেশি। তাই খরচ ওঠানো নিয়েই দুশ্চিন্তা তার। কারণ গত দুই দিনে যে হারে দাম কমেছে, আগামীতে আরো কত কমবে তা বলা কঠিন। যশোর বড় ধানের মোকাম পুলেরহাট। পুলেরহাটের নিপুন এন্টারপ্রাইজের মালিক মাসুদুর রহমান বলেন, হাটে যোগানের সঙ্গে সঙ্গে দাম বৃদ্ধি বা কমার সম্পর্ক রয়েছে। আমন উঠতে শুরু করার পরপরই দাম সাড়ে ৮০০ এর কাছাকাছি ছিল। এখন ৭৭০ টাকার মতো দাম চলছে। তবে ভালো মানের ধানের দাম একটু বেশিই থাকছে। এদিকে এখানে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষকরা তাই দাম নিয়ে ব্যক্ত করছেন হতাশা। ধান কেনা-বেচার প্রথম পর্যায়েই দাম কমতে থাকায় খরচ উঠানো নিয়েও শঙ্কা তাদের। পুলেরহাটে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষকরা জানান, গত বছরের থেকে একটু বেশি পেলেও ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না তারা। কৃষক বরকত আলী, সিদ্দিক গাজীর মতো আরো অনেকের ধারণা, ন্যায্য মূল্য কৃষকের হাতে তুলে দিতে সরকারি পদক্ষেপ না থাকলে গত বছরের মতো এবারো ধানের দর পতন চরম সীমায় পৌঁছাবে। মিলন রহমান/এএম/আরআইপি