নিজের ছেলেকে গুলির ঘটনার পর যশোরের ঝিকরগাছার ইউপি চেয়ারম্যানের গুলিতে এবার স্থানীয় এক ইউপি সদস্য আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদের প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ জহির হোসেন (৪২) ঝিকরগাছা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য। যে শর্টগানের গুলিতে তিনি আহত হয়েছেন সেটি নির্বাসখোলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের। গত ১০ জুন একই শর্টগান দিয়ে নিজের ছেলে সোহাগ হোসেনের পায়ে গুলি করেছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল।প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার ঝিকরগাছার নির্বাসখোলা ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম তার দেহরক্ষী মাসুদকে নিয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে যান। সেখানে শর্টগান নিয়ে নাড়াচাড়া করতে গিয়ে ইউপি সদস্যের গায়ে গুলি লাগে। এতে ইউপি সদস্য আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ঘটনার পরপরই ঝিকরগাছা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাসরিন সুলতানা সাংবাদিকদের জানান, তার কক্ষের পাশেই সহকারী কুমারেশের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। গুলির শব্দে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এর আগে গত ১০ জুন ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম পারিবারিক কলহের জের ধরে তার ছেলে সোহাগ হোসেনের পায়ে শর্টগান দিয়ে গুলি করেছিলেন। এ ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। তাদের অভিযোগ, নজরুল চেয়ারম্যান তার দেহরক্ষী হিসেবে যাদের নিয়োজিত করেন। তাদের কোনো প্রশিক্ষণ নেই। এ কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া তার নিজেরও ‘মাথা গরম’। এমন পরিস্থিতিতে তার কাছে লাইসেন্সকৃত এমন অস্ত্র থাকা আতঙ্কের ব্যাপার। তবে এদিনের গুলির বিষয়টি হালকা করে দেখার জন্য স্থানীয় সাংবাদিকদের পরামর্শ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল জলিল। এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ঝিকরগাছা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, তিনি ঘটনা জেনেছেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে গুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে এ ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করবে বলেও জানান তিনি।মিলন রহমান/এএম/পিআর