দেশজুড়ে

পাচারকৃত ত্রাণের টিন উদ্ধারের ৫ মাসেও মামলা হয়নি

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের বরাদ্দকৃত ২০০ বান্ডিল ঢেউটিনের মধ্যে পাচারকালে ৭০ পিস ঢেউটিন উদ্ধার হলেও অজ্ঞাত কারণে ৫ মাসেও জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়নি। এছাড়া বাকি টিনগুলোও আজও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুন-জুলাই মাসে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় নদী ভাঙন, দুঃস্থ-অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ ও বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর ৩ দফায় নগদ অর্থসহ ৫শ ২০ বান্ডিল টেউটিন বরাদ্দ করে। কিন্তু বরাদ্দকৃত টিনগুলো উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির কোনো প্রকার অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুন্নবী সরকার নিজের ইচ্ছে মতো নামে-বেনামে বিতরণ দেখিয়ে আত্মসাৎ করার চেষ্টা করেন। টিনগুলো পাচারের উদ্দ্যেশে রাখা হয়েছে এমন গোপন খবর পেয়ে পুলিশ গত ৬ জুলাই হরিপুর ইউনিয়নের নাজিমাবাদ আলীম মাদরাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ৭০ পিস টিন জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে। কিন্তু এ ঘটনার ৫ মাস অতিবাহিত হলেও আজও পাচারকারী ও আত্মসাত চেষ্টাকারীর বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। এছাড়া এ ঘটনায় বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ হলে গত ১৮ জুলাই ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের উপ-সচিব ও উপ-পরিচালক আব্দুল মালেক ঘটনাটি তদন্ত করেন। তদন্তে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত সাবেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুন্নবী সরকারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় বা আইনগত কোনো ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট অধিদফতর গ্রহণ করেনি। এদিকে পুলিশ কর্তৃক জব্দকৃত টিনগুলো থানায় হেফাজতে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ব্যাপারে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাবিবুল ইসলাম জানান, তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত আত্মসাতকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিয়ার রহমান জানান, টিনগুলো উদ্ধারের পর তা জব্দ তালিকা করে থানায় রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো বাদী না থাকায় মামলা হয়নি। তবে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. নুরুন্নবী সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জিল্লুর রহমান পলাশ/এফএ/পিআর