গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার সাজেদুল করিম লিখনের (৪২) হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে তার পরিবার। বৃহস্পতিবার দুপুরে গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি জানানো হয়। সাজেদুল করিম লিখন সাদুল্যাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের ইউসুবপুর (জগতবার) গ্রামের মো. মোজাম্মেল হক সরকারের ছেলে। সংবাদ সম্মেলনে লিখনের বাবা মোজাম্মেল হক সরকার বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে একই গ্রামের আবদুল লতিফ, মাহবুব, আব্দুস সামাদ, আজাদ, মিনি বেগম ও রুনি বেগমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাদের বিরোধ ও শত্রুতা চলে আসছিল। এ নিয়ে আদালতে দুটি মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। জমি সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জের ধরেই গত ২৫ নভেম্বর নিজ বাড়ির গেটের সামনে বালু রাখাকে কেন্দ্র করে আবদুল লতিফের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা তার বাড়িতে সশস্ত্র হামলা করে। তিনি আরও বলেন, এসময় সাজেদুল করিম লিখন তাদের বাধা দিলে মাহবুবের নির্দেশে সহযোগী সন্ত্রাসীরা তাকে বেধরক মারপিট করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুকে আঘাত করে। এতে গুরুতর আহত হয় লিখন। পরে তাকে আহত অবস্থায় প্রথমে সাদুল্যাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে ভর্তি করা হয়। কিন্তু তার অবস্থার অবনতি হলে গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল ও পরে রাতেই তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরের দিন ২৬ নভেম্বর দুপুরে মৃত্যু হয় লিখনের। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ ঘটনায় ছয় জনকে আসামি করে সাদুল্যাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। মামলার পর পুলিশ মাহবুব ও আবদুস সামাদকে গ্রেফতার করে। কিন্তু অন্য আসামিরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও ঘটনার দুই সপ্তাহেও তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে আসামি ও তাদের সহযোগীরা বিভিন্নভাবে তাদের হয়রানি এবং হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলনে নিহত লিখনের স্ত্রী রুপালী বেগম ও ভাই এসএম সালাহ উদ্দিন লিটন বক্তব্য দেন। তবে এ বিষয়ে সাদুল্যাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরহাদ ইমরুল কায়েস জানান, মামলার পরেই দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। পরে দুজনকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়া হলে লিখনের হত্যা সম্পর্কে গুরুত্বরপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। জিল্লুর রহমান পলাশ/আরএআর/জেআই