জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেছেন, স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে সম্পত্তি রক্ষা করার অধিকার রয়েছে সাঁওতালদের। তারাও তো দেশের নাগরিক। কিন্তু তাদের উপর হামলা, ঘরবাড়িতে আগুন ও গুলি চালিয়ে যে হত্যার ঘটনা ঘটেছে তা অন্যায় ও ন্যাক্কারজনক। এরকম ঘটনা সহজে মেনে নেওয়া যায় না। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদের ঘটনার তদন্ত ও পরিদর্শন করতে গিয়ে মাদারপুর গির্জার সামনে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি আরও বলেন, সাঁওতালদের অধিগ্রহণ করা জমি চিনিকল কর্তৃপক্ষ শর্ত ভঙ্গ করে অনেকের নামে লিজ দিয়েছেন। তারা যদি জমি লিজ গ্রহণ করতে পারে তবে সেই জমি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাঁওতালরা কেন পাবে না। সাঁওতালদের ওপর হামলা ও উচ্ছেদের ঘটনায় সরেজমিন তদন্ত করে আমলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত সঠিক তদন্ত প্রতিবেদন সরকার ও সংসদের আদিবাসীদের ককাসের নিকট উপস্থাপন করা হবে। এসময় তিনি সাঁওতালদের উদ্দেশ্যে বলেন, বাপ-দাদার জমি থেকে আপনাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। এখন আপনারা সকলে জীবন ও জানমালের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এখনো জীবন রক্ষার্থে সঙ্গে তীর-ধনুক ও লাঠি হাতে পাহারা দিচ্ছেন। তবে আপনারা আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। যারা আইন হাতে তুলে নিয়ে একটি ঘটনা ঘটিয়ে আপনাদের উচ্ছেদ করেছে তাদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। এরআগে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় কমিটির ককাস কমিটি ও ইউএনডিপির ১০ জনের একটি প্রতিনিধি দল ক্ষতিগ্রস্ত মাদারপুর ও জয়পুরপাড়া সাঁওতাল পল্লি ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত সাঁওতালদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় সাঁওতালরা হাতে তীর ধুনক ও লাঠি হাতে নিয়ে বাপ-দাদার জমি ফেরত ও হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলটি জয়পুরপাড়া ও মাদারপুর পল্লি প্রদক্ষিণ করে মাদারপুর গির্জার সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে তারা সমাবেশে অংশ নেয়।সমাবেশ শেষে মাদারপুর গির্জার ভিতরে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পুরুষ ও ৫ নারী সাঁওতালের কাছ থেকে ঘটনার বর্ণানা ও তাদের স্বাক্ষ গ্রহণ করেন প্রতিনিধি দলটি। শেষে প্রতিনিধি দল গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। ১০ সদস্যর প্রতিনিধি দলে ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক, পরিচালক (তদন্ত ও অভিযোগ) শরিফ উদ্দিন, উপ-পরিচালক মো. আশিক, আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় কমিটির ককাস কমিটির আহ্বায়ক সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, সংসদ সদস্য টিপু সুলতান, অধ্যাপক মেজবাহ কালাম, একেএম ফজলুল হক ও ইউএনডিপি’র চিফ টেকনিশিয়ান শর্মিলা রাসুল, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর তাসরিমা নাসরিন, কমিউনিটি অ্যান্ড মাইরেনেট এক্সপার্ট শংকর পাল। জিল্লুর রহমান পলাশ/এফএ/এমএস