রাজাকারের নামে নামকরণ করা নাটোর শহরের দুইটি সড়কের নামফলক হাইকোর্টের নির্দেশে ভেঙে ফেলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের ট্রাফিক মোড়ে আব্দুস সাত্তার খান চৌধুরী মধু মিয়া এবং বড় হরিশপুর কছের উদ্দিন নামের দুই রাজাকারের নামে তৈরি করা নামফলক দুইটি ভেঙে ফেলেন জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন ও নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরী জলি। এসময় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানরা উপস্থিত ছিলেন। ২০১২ সালে মেয়র থাকাকালে শহরের ট্রাফিক মোড় থেকে হাসপাতাল সড়কের নামকরণ করেন সাবেক পৌর মেয়র বিএনপি নেতা শেখ এমদাদুল হক আল মামুন। সে সময় বিরোধীতাকারী মুসলিম লীগ নেতা স্বাধীনতা পরবর্তী প্রকাশিত কলাবরেটর তালিকার ১০ নম্বর অভিযুক্ত রাজাকার আব্দুস সাত্তার খান চৌধুরী মধু মিয়ার নামে নামকরণ করা হয়। অপরদিকে, শহরের বড় হরিশপুর এলাকার চেয়ারম্যান সড়কের নাম পরিবর্তন করে কলাবরেটর তালিকার ১৭ নম্বর অভিযুক্ত রাজাকার কছের উদ্দিনের নামে নামকরণ করা হয়।এরপর গত ৬ ডিসেম্বর সারাদেশে মানবতাবিরোধীদের নামে নামকরণ করা সকল ফলক ভাঙার নির্দেশনা জারি করেন হাইকোর্ট। সেই নির্দেশনার আলোকে বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে নাটোর পৌরসভা চত্বর থেকে মেয়র উমা চৌধুরী জলির নেতৃত্বে মুক্তিযোদের নিয়ে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের ট্রাফিক মোড়ে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে রাজাকার আব্দুস সাত্তার খান চৌধুরী মধু মিয়ার নামে নামকরণ করা সড়কের নামফলক ভেঙে ফেলেন জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন এবং পৌর মেয়র উমা চৌধুরী জলি। অপরটি বড় হরিশপুরের চেয়ারম্যান রোড়ের কছের উদ্দিন চেয়ারম্যানের নামে ফলকটিও ভেঙে ফেলা হয়। এসময় এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মেয়র উমা চৌধুরী জলি বলেন, রাজাকারদের নামে নাটোর পৌরসভার কোনো রাস্তার নামকরণ থাকবে না। পৌরসভার সকল রাস্তার নামকরণ হবে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের নামে। এই কারণে রাজাকার আব্দুস সাত্তার খান চৌধুরী মধু মিয়ার নাম ফলক ভেঙে মুক্তিযোদ্ধা মোতাহার আলী ও চেয়ারম্যান রোডের নামকরণ করা হবে বীরপ্রতীক সোলেমান আলীর নামে।জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন বলেন, নাটোর শহরে কোনো রাজাকারের নাম থাকবে না। আমরা হাইকোর্টের নির্দেশে নাটোরের দুই কুখ্যাত রাজাকারের নামে নামকরণ করা সড়কের ফলক দুইটি ভেঙে ফেলেছি। সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন, শাজাহান আলী, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড জেলা শাখার যুগ্ম-আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম নান্টু, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রুহুল আমীন বিপ্লব প্রমুখ।রেজাউল করিম রেজা/এআরএ/পিআর