দেশজুড়ে

মাস্টারপ্ল্যান করবেন সাখাওয়াত, সহযোগিতা চাইলেন আইভী

সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার শপথ নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আওয়ামীলীগ-বিএনপিসহ ৬ মেয়র প্রার্থী। তারা প্রত্যেকেই মেয়র নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নসহ নাগরিক সুবিধা দেয়ার প্রত্যয় এবং জনসার্থে কাজ করার জন্য দুই হাত তুলে অঙ্গীকার করেছেন। এ ছাড়া নির্বাচনে জনগণের ভোটের রায় মেনে নেয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তারা। শনিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর উদ্যোগে আয়োজিত জনগণের মুখোমুখী অনুষ্ঠানে মেয়র প্রার্থীরা এ অঙ্গীকার করেন। সুজনের নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সুজন কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জনতার মুখোমুখি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, বিএনপি দলীয় মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির মনোনীত প্রার্থী অ্যাড. মাহবুবুর রহমান ইসমাইল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মুফতি মাসুম বিল্লাহ, ইসলামী ঐক্যজোট মনোনীত প্রার্থী মুফতি এজহারুল হক, কল্যাণ পার্টি মনোনীত প্রার্থী রাশেদ ফেরদৌস।ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী তার বক্তব্যে বলেন, আমাকে আপনারা সবাই চেনেন এবং জানেন। আমি কি কাজ করেছি তা আপনারা দেখেছেন। কাজ করলে ভুল ত্রুটি থাকবে। আমি আপনাদের বড় কোন প্রতিশ্রুতি দিতে পারবো না। স্থানীয় সরকার চাইলে সব কিছু করতে পারে না। যানজট নিরসন, গ্যাস, পানি, বিদ্যুতের সমস্যা সমাধান মেয়রের কাজ না।আমি নির্বাচিত হলে জনগণের চাহিদা মোতাবেক জবাবদিহিতামূলক কাজ করার চেষ্টা করবো। আমি গত ৫ বছরে প্রায় ৭০% কাজ সমাপ্ত করেছি। বাকি ৩০% কাজ শেষ করার জন্য আপনাদের সকলের সহযোগিতা কামনা করি। বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আমাকে ভোটাররা মেয়র নির্বাচিত করলে আমার প্রথম কাজ হবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন পেশাজীবী শ্রেণির নেতৃবন্দকে নিয়ে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করে মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা। মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জকে একটি আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলবো।তিনি বলেন, নগর ময়লা আবর্জনার নগরী থাকবে না। যেসব খাল দখলে রয়েছে ভরাট করা হয়েছে সেগুলোকে উদ্ধার করা হবে। শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মাণে সচেষ্ট থাকবো। এছাড়া নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাস গুম খুন অপহরণ ও মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলবো। যানজটমুক্ত নগরী গড়বো। যানজট মুক্ত করতে ফ্লাইওভার, ফুটওভার ব্রিজ করবো, গ্যাস পানি সমস্যার সমাধানে কাজ করবো।   ভোটারদের প্রশ্নের জবাবে সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আমি নারায়ণগঞ্জবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই আমি সব সময়ই শান্তিপ্রিয় মানুষ। সকল নাগরিকদের ঐক্য সৃষ্টি করে মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করবো। আপনারা জানেন আমি সব সময়ই যে কোন ধরনের অপরাধ থেকে দূরে রয়েছি।

 নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সুজন মহানগর কমিটির সভাপতি আহসানুল চৌধুরী বাবুল, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল, সুজন কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে প্রত্যেক মেয়র প্রার্থীকে তিন মিনিট করে কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়। এ সময় তারা উপস্থিত ভোটারদের কাছে নিজেদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। সদ্য সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ছাড়া অন্য অধিকাংশ প্রার্থীই নারায়ণগঞ্জকে অপরিচ্ছন্ন নগরী এবং মাদক ও সন্ত্রাসের আখড়া হিসেবে উপস্থাপন করেন। এসব সমস্যা সমাধানে তারা নিজেদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন।ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী মুফতি এজাহারুল হক বলেন, মেয়র নির্বাচিত হলে তিনি যানজটমুক্ত নগর উপহার দেবেন। শহরের অলিতে গলিতে গড়ে ওঠা মাদকের আখড়া উচ্ছেদ করে সন্ত্রাসীদের উৎপাত ও অস্ত্রের ঝনঝনানিমুক্ত নগর গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।এদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা মো. মাছুম বিল্লাহ বলেন, হকারে নারায়ণগঞ্জ শহরে ছেয়ে গেছে। তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে উচ্ছেদ করবেন তিনি।বাংলাদেশে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান ইসমাঈল বলেন, যানজট, শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ, পরিবেশদূষণ ও জলাবদ্ধতা নগরে এমন একটা অবস্থা সৃষ্টি করেছে যে একে কোনোভাবেই উন্নত সিটি করপোরেশন বলা যাচ্ছে না। শীতলক্ষ্যা নদীর পানি দূষিত, উল্লেখ করে তিনি বলেন, নাকে রুমাল দিয়ে নদীর পাশ দিয়ে যেতে হয়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তিনি কাজ করবেন।বাংলাদেশে কল্যাণ পার্টির প্রার্থী মো. রাশেদ ফেরদৌস মাদকমুক্ত যুব ও তরুণ সমাজ গঠনের জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।মো. শাহাদাত হোসেন/এএম