ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামে ২২টি পরিবার নিয়ে গড়ে উঠেছে খ্রিস্টান পল্লী। পল্লী ও তৎসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এলাকাবাসী। যুগ যুগ ধরে চলে আসছে এ সম্প্রীতির মেলবন্ধন।খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব বড়দিন। ২৪ ডিসেম্বর (শনিবার) রাতে বড়দিনকে কেন্দ্র করে ঝালকাঠির একমাত্র খ্রিস্টান পল্লী নলছিটি উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামে পালন করা হয়েছে নানা কর্মসূচি। বড়দিন পালনে গ্রাম জুড়ে উৎসবমুখোর পরিবেশ আর বাহারি সাজে সাজানো হয়েছে গির্জা। শনিবার সন্ধ্যার পর থেকেই শুরু হয় অনুষ্ঠান। খ্রীস্টান পল্লী পরিদর্শন ও অনুষ্ঠান উপভোগ করেন জেলা প্রশাসক মো. মিজানুল হক চৌধুরী ও পুলিশ সুপার মো. জোবায়েদুর রহমান। রাজাবাড়িয়া খ্রিস্টান পল্লী ও যুব সমিতির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা লাজারেজ গমেজ বলেন, ২শ বছর কিংবা তারও আগে পর্তুগিজ শাসন আমলে এ অঞ্চলে খ্রিস্টানরা বসতি স্থাপন করেন। বর্তমানে ২২টি পরিবারে জনসংখ্যা রয়েছে প্রায় ২২৫ জন। গড়ে উঠেছে গির্জা, বিদ্যালয় এবং বাসভবন। গির্জার সামনে নির্মাণ করা হচ্ছে পুরোহিত সাধু আন্তনী স্মরণে একটি গ্রোটো। শিক্ষা ব্যবস্থা, চিকিৎসা ও পানিসহ নানা সমস্যায় দিন কাটছে এ খ্রিস্টান পল্লীর বাসিন্দাদের। শিশুদের পড়ার জন্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই এ গ্রামে। তবে রবি নিকলজ গমেজ নামক এক গৃহশিক্ষক পল্লীর শিশুদের ১ম শ্রেণি থেকে তৃতীয় শ্রেণি সমমানের শিক্ষা দেন। আর এ জন্য তাকে থাকা, খাওয়াসহ সামান্য বেতন দেয়া হয়। বিশেষ কোন সরকারী সহায়তা নেই খ্রিস্টান পল্লীর বাসিন্দাদের জন্য। এছাড়াও গোসল কিংবা ওজু করার জন্য পানি সমস্যা প্রকট বলেও জানান তিনি। ক্ষোভ প্রকাশ করে লাজারেজ গমেজ বলেন, ছবি তুলে লিখে কী হবে। আপনাদের লেখালেখির কারণে যদি কোনো বরাদ্দ আসে তা পল্লী পর্যন্ত নিয়ে আসতে অর্ধেকে নেমে যায়। সেই সহায়তা আমাকে গ্রহণ করার সময় পুরো টাকা বুঝে পেলাম বলেই সই (স্বাক্ষর) দিতে হয়। তার চেয়ে কোনো সহায়তা ছাড়া আমাদের নিজেদের অর্থায়নে অনুষ্ঠান ভালোভাবেই চলে।তবে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমাদের এখানে যেভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রয়েছে তা আর কোথাও নেই। আমরা চলাচলে অন্য ধর্মাবলম্বীদের যেমন সম্মান দিয়ে চলি। ঠিক তারাও আমাদের তেমন সম্মান দিয়ে চলেন। শিশুদের শিক্ষায় নিয়োজিত শিক্ষক রবি নিকলজ গমেজ বলেন, শিশু শ্রেণি থেকে ৩য় শ্রেণি পর্যন্ত শিশুদের বাংলা, ইংরেজিসহ আবশ্যিক বিষয়ের পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা দেয়া হয়। কিন্তু শিক্ষা নিতে শুধু খ্রীষ্টানদের ছেলে-মেয়েরাই আসে না। দারিদ্রতা কিংবা নানা অসংগতি নিত্য সঙ্গী হলেও উৎসব আয়োজনের কমতি নেই এ খ্রিস্টান পল্লীর কোনো ঘরে। এফএ/এমএস