দেশজুড়ে

পুতুলের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলেন দুলাল

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সামনে অস্থায়ী বেশ কিছু চায়ের দোকান। সেখানে একটি দোকানে চা বিক্রি করছে ৮ বছর বয়সী লাবনী আক্তার পুতুল। যে বয়সে পুতুলের বই খাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, সহপাঠীদের সঙ্গে খেলাধুলা করে সময় কাটানোর কথা সেই বয়সেই পুতুল কেন জীবন সংগ্রামে লিপ্ত। জাগো নিউজের এমন কৌতুহলের পর বিস্তারিত ঘটনা জানতেই বেরিয়ে আসে পুতুলের হাসি কান্নার জীবন কাহিনী। স্কুলের লেখাপড়ার খরচ জোগাড় করতেই চা বিক্রি করে পুতুল। দোকানটি পুতুলের বাবা এরশাদ আলীর। এ বিষয়টি তুলে ধরে “চা বিক্রি করে লেখাপড়ার খরচ জোগাচ্ছে পুতুল” শিরোনামে শুক্রবার জাগো নিউজে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর সকলের দৃষ্টিতে আসে পুতুলের কষ্টের জীবন কাহিনী। লেখাপড়ার জন্য সহায়তার আশ্বাস দেন সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র তাসকিন আহম্মেদ চিশতি।এরই মধ্যে রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার কালিগঞ্জ বাজার এলাকার ব্যবসায়ী মো. আশরাফুল ইসলাম দুলাল পুতুলের লেখাপড়াসহ সকল দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে নেন। জাগো নিউজকে আশরাফুল ইসলাম দুলাল জানান, আমি পুতুলের দায়িত্ব নিতে চাই। এখন থেকে পুতুলের লেখাপড়া সকল দায়িত্ব আমার। একজন অবিভাবকের মত। তার যেকোনো প্রয়োজনে আমি পাশে থাকবো। তিনি আরো জানান, পুতুল যে পর্যন্ত লেখাপড়া করতে চায় সে পর্যন্ত করতে পারবে। লেখাপড়া শিখে ডাক্তার-অফিসার যা হতে চায় তার জন্য আমার সর্বাত্মক চেষ্টা ও সব ধরণের সহযোগিতা থাকবে।শহরের মধুমল্লারডাঙ্গি এলাকার আবুল হোসেনের বাড়ির ছাদের উপর কুড়ে ঘরের ভাড়াটিয়া এরশাদ আলীর মেয়ে পুতুল। কুড়ে ঘরের মধ্যে তিন সন্তান আর স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস এরশাদ আলীর। নিজস্ব কোনো বাড়ি ঘর নেই। নেই কোনো জমিও। বাবার সম্বল বলতে শুধু এই অস্থায়ী চায়ের দোকানটিই।লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি জানার পর পুতুলের মা সুফিয়া বেগম কেঁদে ফেলেন। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, পুতুলের ভাগ্যি যে এসব হবে কখনো ভাবিনি।বাবা এরশাদ আলী ও মা সুফিয়া বেগম জাগো নিউজকে ধন্যবাদ জানান ও আশরাফুল ইসলাম দুলালের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।এ সময় পুতুল কী চায় জানতে চাইলে পুতুল জাগো নিউজকে বলে, এখন থেকে মন দিয়ে লেখাপড়া করবো। আর চায়ের দোকানে যাবো না। লেখাপড়া শিখে পুলিশ অফিসার হতে চাই আমি। আকরামুল ইসলাম/এফএ/এমএস