কক্সবাজারের টেকনাফের মুচনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আনসার ব্যারাক থেকে লুট হওয়া পাঁচটিসহ দশটি অস্ত্র উদ্ধার করেছে র্যাব। এসময় লুট হওয়া ১৮৯টি কার্তুজসহ ২১৫টি কার্তুজও উদ্ধার করা হয়। সোমবার রাতভর কক্সবাজারের উখিয়ার পার্শ্ববর্তী গহীন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পাহাড়ের পাদদেশে বিশেষ গর্ত করে প্লাস্টিকের ড্রাম ভর্তি করে অস্ত্রগুলো রাখা হয়েছিল।মঙ্গলবার দুপুরে র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মিজানুর রহমান খান টেকনাফে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। র্যাব মহাপরিচালক বলেন, গত বছরের ১২মে রাতে টেকনাফের নয়াপাড়া মুচনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আনসার ব্যারাকে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এসময় তাদের প্রতিহত করতে গিয়ে খুন হন আনসার পিসি আলী হোসেন। দুর্বৃত্তরা ১১টি সরকারি অস্ত্র ও ৬৭০ রাউন্ড গুলি লুট করে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই পুলিশ, বিজিবি ও র্যা ব অভিযান চালায়। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন ছয়জনকে বিভিন্ন সময় আটক করে র্যা ব ও পুলিশ। আটকদের দেয়া তথ্য মতে রোববার রাতে ঘটনায় সম্পৃক্ত খাইরুল আমিন (বড়) ও মাস্টার আবুল কালাম আজাদকে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে দুটি অস্ত্রসহ আটক করা হয়। বেনজীর আহমেদ আরও বলেন, আটকদের দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তাদের আরেক সহযোগী হাসান আহমদকে আটক করে র্যা ব। পরে তাদের নিয়ে অভিযানে গেলে তাদের দেখিয়ে দেয়া দুটি স্পট থেকে র্যা ব লোকানো অস্ত্রগুলোর সন্ধান পায়। র্যাব, আনসার কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে মাটি খুঁড়ে ড্রাম ভর্তি অস্ত্রগুলো উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে- তিনটি এমটু, এসএমজি একটি, ৭.৬২ চাইনিজ রাইফেল একটিসহ দেশীয় তৈরি পাঁচটি অস্ত্র এবং লুট হওয়া কার্তুজের ১৮৯ পিস ও দুর্বৃত্তদের ২৬ পিস কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। বাকী অস্ত্র উদ্ধারে আটকদের নিয়ে আবারো অভিযানের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। আনসার মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মিজানুর রহমান খান বলেন, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো আনসার ব্যারাক থেকে লুট হওয়া অস্ত্র বলেই প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পরে নাম্বার ও অন্যান্য বিষয়াদি মিলিয়ে দেখে কোন কোন অস্ত্র পাওয়া গেছে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। সফল এ অভিযানের জন্য তিনি র্যা বসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। র্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্পের ইনচার্জ লে. কমান্ডার আশেকুর রহমান জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একটি সফল অভিযান চালানো সম্ভব হয়েছে। অভিযুক্ত খাইরুলের দেখিয়ে দেয়া স্থান থেকে মাটি খুঁড়ে অস্ত্রগুলো পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ মে রাতে টেকনাফের নয়াপাড়ায় শরণার্থী শিবিরের আনসার ক্যাম্পে দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। তাদের বাধা দিতে গিয়ে আনসার কমান্ডার টাঙ্গাইলের শফিপুরের মৃত শুক্কুর আলীর ছেলে আলী হোসেন (৫৫) নিহত হন। এ সময় ১১টি অস্ত্র ও প্রায় ৬৭০ রাউন্ড গুলি লুট করা হয়। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন অভিযুক্তের ভেতর আটক খাইরুল আমিন অন্যতম।সায়ীদ আলমগীর/আরএআর/জেআইএম