ভবন নেই। শিক্ষার্থীও নেই। নেই কোনো ধরনের কার্যক্রম। তবুও শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের দেয়া বই তুলছেন মাদরাসার সুপার নজরুল ইসলাম। এর আগেরও দুইবার বই তুলেছেন তিনি।ঘটনাটি ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের বসিরপাড়া হবিবর রহমান মহিলা মাদরাসার। এ ঘটনায় শহরজুড়ে চলছে ব্যাপক আলোচন।জানা গেছে, ১৯৯০ সালে পৌর শহরের বসিরপাড়ায় স্থানীয় সমাজসেবক হবিবর রহমান নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নেয়ার জন্য একটি মাদরাসা স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। পরে ৪১ শতক জমির উপর কাঁচা ঘর নির্মাণ করা হয়। স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় কয়েক বছর ধরে ভালোই চলছিল মাদরাসার কার্যক্রম। কিন্তু দীর্ঘদিন মাদরাসাটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় ঝিমিয়ে পড়ে পাঠদানসহ সকল কার্যক্রম।তবে বিভিন্ন সময় মাদরাসার নামে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুদান আসলে মাদরাসার সুপার একাই উত্তোলন করে অনুদান করে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ ৫/৬ বছর যাবত মাদরাসার কাঁচা ঘরগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে বিলুপ্ত হয়েছে মাদরাসাটি। সেখানে নেই কোনো অফিস ও ক্লাসরুম। কিন্তু ২০১৩ সাল থেকে শিক্ষার্থীদের নাম করে মাদরাসার সুপার বই উত্তোলন করছেন। এবারো সুপার ১১০ সেট বই বিভিন্ন শ্রেণির নাম করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে তুলেছেন করেছেন।এ ব্যাপারে ওই মাদরাসার শিক্ষক জাহিরুল ইসলাম শামীম জানান, মাদরাসাটি দীর্ঘদিন যাবত এমপিওভুক্ত না হওয়ায় কোনো কার্যক্রম নেই। সুপার কেন শিক্ষার্থীদের নামে প্রতি বছর বই উত্তোলন করেন বিষয়টি সন্ধিহান আমরাও।এ ঘটনায় বসিরপাড়া এলাকার সাদেকুল ইসলাম জাগো নিউজ জানান, হবিবর রহমান মহিলা মাদরাসার দীর্ঘদিন যাবত কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে। মাদরাসার মাঠটি বর্তমানে এলাকার বাচ্চারা খেলাধুলার কাজে ব্যবহার করছে। হবিবর রহমান মহিলা মাদরাসার সুপার নজরুল ইসলাম জানান, মাদরাসাটি এমপিওভুক্ত করার জন্য আমরা জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। মাদরাসার শিক্ষার্থী আছে বলেই বই উত্তোলন করা হচ্ছে। ভবন না থাকায় আপাতত শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আসতে পারছেন না।মাদরাসার ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি একরাম হোসেন জানান, বই উত্তোলনের বিষয় আমি জানি না। এমপিওভুক্ত না হওয়ায় মাদরাসার কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পারভিন আক্তার জানান, আমরা ইতোমধ্যে মাদরাসার কার্যক্রম বন্ধ থাকার বিষয়টি জেনেছি। শিক্ষার্থীদের নামে যে সকল বই উত্তোলন করা হয়েছে সেই বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।রবিউল এহসান রিপন/এমএএস/জেআইএম