দেশজুড়ে

স্ট্রবেরী ভিলেজ হিসাবে জনপ্রিয় হচ্ছে জয়পুরহাট

জয়পুরহাটে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর বিদেশী জাতের ফল স্ট্রবেরী। জেলা সদরের জামালপুর ও আক্কেলপুর উপজেলার জামালগঞ্জ এখন স্ট্রবেরী ভিলেজ হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।  স্ট্রবেরী চাষের উপযোগী মাটি আর আবহাওয়া কাজে লাগিয়ে জেলায় চাষ বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলাসহ এখানকার উৎপাদিত স্ট্রবেরী দেশের চাহিদা মিটিয়ে প্রচুর পরিমাণে বিদেশেও রপ্তানী করা সম্ভব। জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে জেলার প্রায় ১২০ বিঘা জমিতে স্ট্রবেরী চাষ হচ্ছে। এক বিঘা জমিতেস্ট্রবেরী চাষ করলে খরচ হয় ১লাখ ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা, সেখানে খরচ বাদ দিয়ে লাভ হচ্ছে ৫০-৬০ হাজার টাকা। ফলে কৃষকরা ব্যাপক ভাবে ঝুঁকছেন স্ট্রবেরী চাষের দিকে। সর্বপ্রথম এ অঞ্চলে ২০১১ সালে ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন ইংল্যান্ড থেকে ফেস্টিভ্যাল হাইব্রীড জাতের স্ট্রবেরী নিয়ে এসে পরীক্ষামূলকভাবে স্বল্প-পরিসরে চাষ শুরু করেন এবং তার পরের বছর ২০১২ সালে সেখান থেকে চারা সংগ্রহ করে বাণিজ্যিকভাবে জয়পুরহাট সদর উপজেলার জামালপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক প্রথম তিন বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে স্ট্রবেরী চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হন। কৃষক আব্দুল খালেকের সফলতা দেখে পরের বছর একই এলাকার চার শিক্ষিত বেকার যুবক হামিদ,ওয়াদুদ, বাবু, রবিউল ২০১৪ সালে কোন প্রকার ব্যাংক ঋণ বা সরকারী কোন সহযোগীতা ছাড়াই শুধু মাত্র নিজেদের উদ্যোগে প্রায় ১০ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে চারা সংগ্রহ করে স্ট্রবেরী চাষ  শুরু করেন। সে বছর খরচসহ স্ট্রবেরী চাষে তাদের ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা এবং তারা লাভও করেন ১৭ লাখ টাকা। সেই থেকে এ এলাকায় ষ্ট্রবেরী চাষের বিপ্লব শুরু হয়।  নভেম্বর মাস ষ্ট্রবেরী চাষের উপযুক্ত সময়, জানুয়ারিতে ফল ধরে এবং ফল তোলার কাজ চলতে থাকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত। প্রতিদিন এ অঞ্চলের বিভিন্ন জমি থেকে ৫ হাজার ২০০, ৫ হাজার ৫০০ কেজি ষ্ট্রবেরী ৬০-৭০ টাকা দরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। স্ট্রবেরী চাষ বৃদ্ধির ফলে এলাকায় ব্যাপক কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হয়েছে। এমন ঈর্ষনীয় সাফল্যে জেলার বিভিন্ন স্থানে এই ফল চাষ ছড়িয়ে পড়ছে। জয়পুরহাট সদরের দেওয়ান পাড়া এলাকার কৃষক আব্দুস সামাদ, ছোটন ও পুরানাপৈল বাজারের তসলিমসহ অনেকেই জানান, আগামীতে স্ট্রবেরী চাষের সব প্রস্তুতি তারা গ্রহণ করেছেন। আগামী মৌসুমে তারা স্ট্রবেরী চাষ করবেন বলে জানান। তবে টানা অবরোধ আর হরতালে বিপর্যস্ত যোগাযোগের কারণে বেশ বিড়ম্বনায় পরেছেন এখানকার চাষীরা। জামালগঞ্জ এলাকার স্ট্রবেরী চাষী আহসান কবীর এ্যাপ্লব ও রাজেশ কুমার জানান, গত বছর যেখানে প্রতি কেজি ষ্ট্রবেরী ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পাইকারী বিক্রি করেছি এ বছর সেখানে মাত্র কেজি প্রতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে লোকশান না হলেও বেশী লাভ থাকছে না। জামালপুরের স্ট্রবেরী চাষী কৃষক হামিদ, বাবুসহ অনেকে জানান, সঠিক বাজার সৃষ্টি করা গেলে স্ট্রবেরী চাষে কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা সম্ভব। জামালগঞ্জের ৬ বিঘা জমিতে স্ট্রবেরী চাষী কৃষক বাবু জানান, সম্ভাবনাময় এই ফল শুধু দেশের ছোট বাজারের কারণে  ব্যাপকতা পাচ্ছে না, যদি ফলের রস প্রস্তুতকারক কোম্পানীগুলো এগিয়ে আসেন তবে স্ট্রবেরী চাষে জেলার আরও কৃষকরা এগিয়ে আসবেন। জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, আবহাওয়া স্ট্রবেরী চাষের বেশ উপযোগী। তাছাড়া অধিক লাভজনক আর দেশ বিদেশে প্রচুর চাহিদা থাকায় এর চাষ সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও দাবী কৃষি বিভাগের। জয়পুরহাট কৃষি  সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ জেড এম সাব্বির ইবনে জাহান জানান, বর্তমানে এ অঞ্চলে-ফেস্টিভ্যাল হাইব্রীড, রাবি-৩ ও কামারুশা এই তিন জাতের ষ্ট্রবেরীর চাষ হচ্ছে। জয়পুরহাটের স্ট্রবেরী এক দিন দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।  এমজেড/এমএস