বগুড়া শহরের নিউমার্কেটের আল-হাসান জুয়েলার্সে ডাকাতির ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় গুলিবিদ্ধ ডাকাত সদস্য আলমগীর হোসনসহ অজ্ঞাত আরও ৭/৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। রোববার বিকেলে জেলা মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।এদিকে, বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডাকাতি হওয়া জুয়েলার্সের মালিক গুলজার রহমান শঙ্কামুক্ত হওয়ায় দুপুরে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন।হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান আবদুল মোত্তালেব হোসেন বলেন, গুলজার রহমানের শরীরের ভেতরে গুলি নেই। দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে পায়ের মাংস পেশি সামান্য জখম হয়েছে। এ কারণে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।আল-হাসান জুয়েলার্সের মালিক গুলজার রহমান ঘটনার পর দাবি করেছিলেন, দোকানের সিন্দুক ভেঙে ডাকাতরা কমপক্ষে ৬০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করেছে। তবে পুলিশ শরিবার রাতেই অভিযান চালিয়ে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস থেকে ৩০০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করে। পুলিশ বলছে, তারা আটক মাইক্রোবাস থেকে যেভাবে বস্তাভর্তি স্বর্ণ পেয়েছে, সেভাবেই তা জব্দ করে থানা হেফাজতে নিয়েছে। পুরো ডাকাত দলকে ধরা গেলে আসলে কোনো স্বর্ণ খোয়া গেছে কিনা সেটা জানা যাবে।অন্যদিকে, দুর্ধর্ষ এই ডাকাতির ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজন আরও দুইজনকে গ্রেফতার করেছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এর আগে শনিবার রাতে মাইক্রোবাস ধাওয়া করে একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই নিয়ে গ্রেফতার সংখ্যা দাঁড়ালো তিন জনে।সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদ হোসেন নতুন করে কাউকে গ্রেফতার কথা অস্বীকার করে বলেন, একটু অপেক্ষা করেন। সব জানানো হবে। ডাকাতদের কারা ডেকে এনেছিল, তাদের মুখোশও খুলে দেয়া হবে।ওসি আরো বলেন, ডাকাতির ঘটনায় রাতেই দোকান মালিক গুলজার হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আর আটক মাইক্রোবাস থেকে যেভাবে বস্তাভর্তি লুণ্ঠিত মালামাল পাওয়া গেছে, সেভাবেই তা থানায় এনে জব্দ করা হয়েছে। এর পরিমাণ প্রায় ৪ কেজি।উল্লেখ্য, শনিবার সন্ধ্যা রাতে বগুড়া নিউমার্কেট-সংলগ্ন গোল্ডেন মার্কেটের আল-আমিন জুয়েলার্সে হানা দেয় অস্ত্রধারী ডাকাতরা। তারা মালিককে গুলি করে পুরো দোকান লুট করে। ডাকাতদের আরেকটি দল বাইরে সড়কে বোমা ফাটিয়ে মাইক্রোবাসে পালিয়ে যায়।এআরএ/জেআইএম