দেশজুড়ে

ফেসবুকে টাকা তুলে আবেদ পাগলার চিকিৎসা সহায়তা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে টাকা তুলে আবেদ পাগলার চিকিৎসায় সহায়তায় করা হয়েছে। ফেসবুকে তোলা সেই অর্থ ঠাকুরগাঁওয়ের বহুল পরিচিত অাবেদ অালী পাগলার হাতে তুলে দেয়া হয়।বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার দানারহাট বাজারে তার নিজ বাড়িতে চিকিৎসা বাবদ সহযোগিতার ১০ হাজার টাকা তুলে দেন একদল সংবাদকর্মী।এ সময় সেখানে দৈনিক ইত্তেফাকের ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি তানভীর হাসান তানু, জাগো নিউজের রবিউল এহসান রিপন, দীপ্ত টেলিভিশনের সামসুজোহা, নাবিল পরিবহনের ম্যানেজার (ঠাকুরগাঁও) উপস্থিত ছিলেন।গত ১ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ের অাবেদ অালীর চিকিৎসার জন্য অর্থসহায়তা চেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন জাগো নিউজের সহকারী বার্তা সম্পাদক মাহাবুর অালম সোহাগ। অনেকে সেই স্ট্যাটাসে সাড়া দিয়ে অাবেদ অালীর পাশে দাঁড়াতে যে যার সাধ্যমতো সহযোগিতা করেন। সবার পাঠানো অর্থ একত্র করে (১০ হাজার টাকার) অাজ তার হাতে তুলে দেয়া হয়।কে এই অাবেদ অালী : অাবেদ অালী হলেন ঠাকুরগাঁওয়ের মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তি। তিনি ঠাকুরগাঁও শহরে দীর্ঘদিন অবস্থান করে সবার কাছে অাবেদ অালী পাগলা হিসেবে পরিচিতি পান। পাগলা বলার কারণ হলো যে মৌসুমই হোক একাধিক কাপড় পরে চলাফেরা করতেন তিনি। এ কারণে প্রচলিত রয়েছে কারও সন্তান অথবা কেউ গায়ে একাধিক কাপড় পরলেই তাকে বলা হলো তুই কি ‘অাবেদ অালী পাগলা’ হয়েছিস।এছাড়া শহরে অাবেদ অালী পাগলার বেশ কিছু জনশ্রুতি রয়েছে। যেমন- তাকে কেউ টাকা খুচরা করতে দিলে তিনি শহরের এপার থেকে ওপার পর্যন্ত ঘুরে ঘুরে নিজ দায়িত্বে টাকা খুচরা করে অানতেন। এরপর খুচরা করতে দেয়া সেই ব্যক্তিকে ওই স্থানে না পেলে তিনি সেখানেই অবস্থান নিয়ে বসে থাকতেন, ওই ব্যক্তি পুনরায় সেখানে ফিরে না অাসা পর্যন্ত।অারও একটি ব্যাপার জানে শহরের মানুষ। তা হলো যখনই শহরের মূল পয়েন্টে যানজট লাগতো তখনই তিনি বাঁশি হাতে নেমে পড়তেন যানজট নিরসনে।এছাড়া তিনি প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে সব ইংলিশ পত্রিকা পড়ে তারপর কাজে নামতেন। শহরে থাকাবস্থায় তিনি বড় মসজিদের বারান্দায় থেকেছেন দীর্ঘদিন। অসুস্থ হওয়ার পর অাবেদ অালী এখন সদর উপজেলার দানারহাটে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। বতর্মানে তার বয়স ৮৫ বছর।রবিউল এহসান রিপন/এএম/আরআইপি