সাতক্ষীরায় ছাত্রলীগ নেতা হাসিবুল হাসান ইমন হত্যার একদিন পেরিয়ে গেলেও কোনো রহস্য উৎঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। তবে ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ইমনের চাচা আলমগীর হাসান আলম বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে অজ্ঞাতনামা আসামি করে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।নিহত ছাত্রলীগ নেতা ইমনের মা হোসনেয়ারা কান্নাজড়িত কন্ঠে বুধবার বেলা ১২টায় জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি চাই আমার ছেলেকে যারা খুন করেছে তাদের ফাঁসি হোক। এ রকম যেন আর কোনো মায়ের কোল খালি না হয়।’বোন নাজমা দীপু বলেন, আর কত মা তার সন্তানকে হারাবে। আর কত বোন তার ভাইকে হারাবে। আমি চাই সরকার এমন একটা সুষ্ঠু বিচার করুক যাতে যারা সন্ত্রাসীরা এই ধরনের খুন আর না করতে পারে। আর কোনো মা-বোনকে যেন কাঁদতে না হয়।এ ঘটনায় ঘটনায় নিহতের প্রতিবেশী সুলতানপুর এলাকার শেখ সেলিমুর রহমানের ছেলে বখাটে শেখ বকতিয়ার রহমান বিপ্লব, হাফিজুর রহমানের ছেলে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজছাত্র মোস্তাফিজুর রহমান মুরাদ, রাজাউদদৌল্লার ছেলে বখাটে রেজাউল্লাহ রনিকে গ্রেফতার করেছ পুলিশ।সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ হোসেন মোল্লা জাগো নিউজকে বলেন, হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলা নং-২৭। মামলাটি ওসি-তদন্ত আলমগীর কবির তদন্ত করছেন। ইতিমধ্যে সন্দেহজনক হিসেবে তিনজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যে হত্যার রহস্য ও হত্যাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। তবে নিহতের চাচা এস এম ফেরদৌস বলেন, ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। কারো সঙ্গে কোনো বিবাদ ছিল না। ধারণা করছি, ব্যবসায়িক লেনদেনের কারণে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা সদরের ধুলিহর এলাকার ইকবল বিশ্বাসের মাছের ঘের থেকে উদ্ধার করা হয় সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খুলনা কমার্স কলেজের ব্যাবস্থাপনা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র শেখ হাসিবুল হাসান ইমনের মরদেহ। ইমন শহরের সুলতানপুর এলাকার শেখ ইকবাল হাসান লিটনের ছেলে। সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেনি। মঙ্গলবার সকালে ঘের থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্ত তদন্ত শেষে নিহতের পরিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। নিহতের বাবা দীর্ঘদিন কাতারে ছিল। বর্তমানে শহরের ডিজিটাল ল্যাব স্পন্দনে কাজ করছেন।এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রতিবাদ ও হত্যাকারীদের শান্তির দাবি জানিয়ে ছাত্রলীগের পক্ষে কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে জানান, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবু। তিনি বলেন, হত্যাকারীদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে। আকরামুল ইসলাম/এআরএ/জেআইএম