বাবার-মায়ের ডিভোর্সের কারণে ঝিনাইদহের শৈলকুপার দিগনগর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের অপূর্ব কুমার কর্মকার (১৩) ওরফে কৃষ্ণের দিন কাটছে কারাগারে। সেই সঙ্গে বাবা-মায়ের দ্বন্দ্বের কারণে অন্ধকারে যেতে বসেছে তার ভবিষ্যৎ।ঝিনাইদহ সদর থানা জিডি সূত্রে জানা যায়, গোপালপুরের রতন কুমার কর্মকার ও কালিগঞ্জের অর্পনা রানীর বিয়ে হয় এবং তাদের ঘর আলো করে জন্ম নেয় এক ছেলেসন্তান। নাম রাখা হয় অপূর্ব কুমার কর্মকার। এরপর অপূর্বকে নিয়ে অর্পনা রানী চলে যান বাবার বাড়ি। ডিভোর্স দেন স্বামীকে। নতুন করে বিয়ের পিঁড়িতেও বসেন তিনি। এদিকে অপূর্বকে কৃষ্ণ নামে রেখে আসেন সিদ্ধেশ্বরী মায়ের বাড়ি অনাথ আশ্রমে। অনাথ আশ্রমে শিশু কৃষ্ণ লেখাপড়ার পাশাপাশি গান-বাজনায় পারদর্শী হয়ে ওঠে। শিশু একাডেমি থেকে পুরস্কার ও পায় সে।কিন্তু তার মা আশ্রম কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে গোপনে তাকে জোর করে সেখান থেকে নিয়ে যান এবং লুকিয়ে রাখেন। কয়েকবার এমন ঘটনার পর আশ্রম কর্তৃপক্ষ ওই নারীর বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ সদর থানায় জিডি করে।জিডির সূত্রে পুলিশ অপূর্বকে উদ্ধার করলে মা এবং বাবা উভয়ে তাকে হেফাজতে নেয়ার দাবি করলে পুলিশ অপূর্বকে ৭ জানুয়ারির আদালতে পাঠায়। বর্তমানে সে যশোর শিশু কারাগারে। এছাড়া পুলিশে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই নারীর নতুন স্বামী ছেলেটিকে মেনে নিতে নারাজ।এদিকে বাবা রতন কুমার বিশ্বাস অভিযোগ করেছেন, অপূর্বকে তার মা ভারতে নিয়ে যেতে পারে। কেননা সে হারিয়ে যাওয়ার পর চুয়াডাঙ্গা বর্ডারের কাছ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। তাতে অপূর্বের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে চলে যাবে। এছাড়া তিনি তার ছেলের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে নিজ হেফাজতে নিতে চান।বাবা-মা উভয়ের দাবি, ছেলেকে কে পাবেন সে সিদ্ধান্ত দেবেন আদালত। তবে কত দিনে সে সিদ্ধান্ত আসবে আর কত দিন শিশু অপূর্ব কারাগারে কাটাবে সেটিই দেখার বিষয়।আহমেদ নাসিম আনসারী/এএম/জেআইএম