সাতক্ষীরায় মাছের উৎপাদন বেড়েছে। কিন্তু দাম কম থাকায় হতাশ ঘের ব্যবসায়ীরা। প্রতি কেজি চিংড়িতে লোকসান ৬০০ টাকা। আর সাদা মাছে লোকসান ২০-৫০ টাকা। লাভ তো নেই বরং কোনো কোনো ব্যবসায়ীর আসল টাকাও উঠছে না। চিংড়ি বিদেশে রফতানি না হওয়ায় এর মূল কারণ হিসেবে দুষছেন ব্যবসায়ীরা। তবে মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন. চাষিদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। দাম পূর্বের অবস্থায় ফিরবে।মাছ চাষের জন্য দেশজুড়ে সুনাম সাতক্ষীরার। তাছাড়া সাতক্ষীরায় উৎপাদিত চিংড়ি বিদেশে রফতানি হওয়ায় এর কদর বেড়েছে।সাতক্ষীরা জেলায় গত বছর মাছ উৎপাদন ছিল এক লাখ ২২ হাজার মেট্রিন টন। আর ২০১৬ তে উৎপাদন বেড়ে হয়েছে এক লাখ ২৯ হাজার মেট্রিক টন। তবে বর্তমানে বিশ্ববাজারে সাতক্ষীরার মাছ রফতানি না হওয়ায় এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে ঘের ব্যবসায়ীদের উপর।সাতক্ষীরার বিনেরপোতা বাজারের মাছের আড়তদার রাম প্রসাদ সরকার জানান, মাছের বাজার খুব খারাপ। চিংড়ি দিক থেকে গত বছর থেকে প্রতি কেজিতে ৪০০ টাকা কম। আর সাদা মাছ কেজিতে ২০-৫০ টাকা কম। এ নিয়ে ব্যবসায়ীরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত। ঘের ব্যবসায়ী রুহুল আমিন জাগো নিউজকে বলেন, আমরা মাছ চাষিরা ঘেরের মাছ আড়তে বিক্রি করতে এসে ন্যায্য দাম পাচ্ছিনা। আমাদের ব্যাপক লোকসান হচ্ছে। লাভতো নেই বরং লোকসানে রয়েছি।তিনি বলেন, আমাদের দেশের গলদা বাগদা চিংড়ি এখন বিদেশে যাচ্ছে না। দেশেই বিক্রি হচ্ছে। এতে চাষিরা যেমন মার খাচ্ছেন, তেমনি ব্যবসায়ীরা। আগে যে মাছ হাজার টাকা বিক্রি করেছি এখন সেই মাছ ৬শ টাকা।বিদেশি বায়াররা মুখ ফিরিয়ে নেয়ায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে শহরের সুলতানপুর এলাকার ঘের ব্যবসায়ী ফয়সাল মোজাফফার রচি জানান, ইন্টারন্যাশনাল চাহিদা কম হওয়ার কারণে চিংড়ি রফতানি কমেছে। তাছাড়া কিছু অসাধু ব্যাবসায়ীর কারণে বর্তমানে বায়াররা মুখ ফিরিয়ে নেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারিভাবে তদারকি বাড়ানোর দাবি জানিয়ে শহরের অপর বিশিষ্ট ঘের ব্যবসায়ী আলহাজ ডা. আবুল কালাম বাবলা জাগো নিউজকে বলেন, চিংড়ি ও সাদা মাছ চাষিরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। বাজার তদারকি করা বিশেষ করে সরকারিভাবে বিশ্ব বাজারে যাতে মাছের দাম বেশি পাওয়া যায় সে ব্যাপারে তদারকি প্রয়োজন।তবে হতাশ না হওয়ার কথা জানিয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম সরদার জানান, বর্তমানে অধিকাংশ ঘের এখন শুকানো হচ্ছে। তাই মাছের প্রাচুর্য একটু বেশি। যেহেতু এটা পচনশীল দ্রব্য আর এখানে মাছ সংক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই সেজন্য সাময়িকভাবে দাম কিছুটা কমেছে। এতে চাষিদের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। এই দাম পর্যায়ক্রমে আবার ঠিক হয়ে যাবে।এমএএস/আরআইপি