যশোরের চৌগাছা শাহাদাৎ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির নিখোঁজ তিন ছাত্রের সন্ধান মিলেছে। তারা বাড়ির কাউকে না বলে কুয়াটাকায় চলে গিয়েছিল। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সোমবার রাতে তাদের সন্ধান পাওয়া গেছে। আজ মঙ্গলবার তারা বাড়ি ফিরবেন বলে জানিয়েছেন আশরাফুল ইসলাম শাওনের বাবা শফিকুল ইসলাম।গত ২২ জানুয়ারি দুপুর আড়াইটার দিকে চৌগাছা উপজেলা সদর থেকে সহপাঠী তিন বন্ধু নিখোঁজ হয়। পরিবারের লোকজন সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ না পেয়ে রোববার রাতে চৌগাছায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিল। সাধারণ ডায়েরি নম্বর ৯৫২। ওই তিন বন্ধু হলো- চৌগাছা উপজেলার কাদবিলা গ্রামের বাসিন্দা ও চৌগাছা থানা পাড়ার ভাড়াটিয়া শফিকুল ইসলামের ছেলে আশরাফুল ইসলাম শাওন (১৩), চৌগাছা পশ্চিম কারিগরপাড়ার আরিফুল ইসলামের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (১৩) ও চৌগাছা বাকপাড়া এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে তানভির আহমেদ তন্ময় (১৩)। চৌগাছা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক আনোয়ারুল আজিম বলেন, নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীর সন্ধান পাওয়া গেছে। তারা বাড়ি থেকে টাকা ও শীতের জামা কাপড় নিয়ে কুয়াকাটায় চলে গিয়েছে। ওই তিন কিশোরের পরিবার জানতে পেরেছে তারা কুয়াকাটায় রয়েছে। আজ তারা বাড়ি ফিরবে বলে মোবাইল ফোনে পরিবারের লোকজনকে জানিয়েছে।আশরাফুল ইসলাম শাওনের বাবা শফিকুল ইসলাম বলেন, ওরা তিনবন্ধু কুয়াকাটায় সমুদ্র সৈকতে রয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সোমবার রাতে ওদের সন্ধান পেয়েছি। আমার ছেলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথাও হয়েছে। ওদের আনতে সেখানে লোক পাঠিয়েছি। আজ ওরা বাড়ি ফিরবে বলে জানিয়েছে।রোববার রাতে চৌগাছা থানায় নিখোঁজ আশরাফুল ইসলাম শাওনের বাবা শফিকুল ইসলাম সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করেন, ২২ জানুয়ারি দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটের দিকে তার ছেলে চৌগাছা শাহাদাৎ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আশরাফুল ইসলাম শাওন প্রাইভেট পড়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরপর আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। বাড়িতে না ফেরায় সকল আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজখবর নিয়ে জেনেছি কোথাও সে নেই। বাসায় খোঁজাখুঁজি করে জানতে পেরেছি শাওন বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় জামা প্যান্ট, শীতের কাপড় ও ৩/৪টা বই ও আনুমানিক ৯ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। আমার ছেলের সব বন্ধুদের বাড়িতে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি তার অপর দুই বন্ধু আশরাফুল ইসলাম ও তন্ময়কে পাওয়া যাচ্ছে না। তিন পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের খোঁজাখুঁজি করা হচ্ছে।মিলন রহমান/আরএআর/পিআর