শীতের বাজারে চোখে পড়ছে তাজা পালংশাক। পুষ্টিতে ভরপুর বলে শীতের সময় যত বেশি সম্ভব পালংশাক খাওয়া উচিত।
পালংশাকের গল্প শুরু হয় আজ থেকে প্রায় দুই হাজার বছর আগে, প্রাচীন পার্সিয়ায়। ধীরে ধীরে এটি ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীর নানা প্রাচীন জনপদে। ছয় শতকের দিকে ‘পার্সিয়ান সবজি’ হিসেবে পরিচিতি পায় ভারত এবং প্রাচীন চীনে, নেপালের পথে সিল্ক রোড ধরে। এই শাক আমাদের শরীরের জন্য সত্যিই একটি উপহার।
পালং শাকে লুকিয়ে আছে ফাইবার, ভিটামিন সি, এ এবং কে, এবং আয়রনের মতো উপাদান, যা একাধিক রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তবে শাকের সঠিক উপায়ে রান্না করা না হলে তার পুষ্টিগুণ পুরোপুরি কাজে আসে না।
কেন সঠিকভাবে রান্না করা জরুরি?পালংশাকে রয়েছে অক্সালেট নামের একটি উপাদান, যা অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে কিডনির সমস্যা এবং পাথর তৈরি করতে পারে। তাই মেপে-ঝুপে খাওয়ার চেয়ে সঠিকভাবে রান্না করা অনেক বেশি জরুরি। সঠিক রান্নার মাধ্যমে শরীরে তেমন কোনো সমস্যা হয় না।
সঠিক রান্নার পদ্ধতিপালংশাক কাঁচা খাওয়া ঠিক নয়। প্রথমে ফুটন্ত পানিতে এক মিনিট ডুবিয়ে নিন। তারপর সেই শাক বরফপানিতে রেখে ঠান্ডা করুন। এই পদ্ধতিকে বলা হয় ব্লাঞ্চিং, যা অক্সালেট কমাতে সাহায্য করে। এরপর ব্লাঞ্চ করা পালংশাক দিয়ে স্মুদি, স্যুপ বা তরকারি বানানো যায়। শুধু পালংশাক নয়, অন্যান্য সবজি যেমন ব্রোকলি, ক্যাপসিকাম বা গাজরও ব্লাঞ্চিং করে খেলে তাদের মধ্যে থাকা টক্সিন দূর হয়। সবজি সালাদ বানানোর সময়ও এই নিয়ম মানা উচিত, এতে সবজি হজমে সহজ হয় এবং পুষ্টি বজায় থাকে।
শীতকালে পালংশাককে এভাবে রান্না করে খেলে শুধু স্বাদই পাওয়া যাবে না, শরীরের সঠিক উপকার পাবে।
সূত্র: এভরিডে হেলথ, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও অন্যান্য আরও পড়ুন: শীতকালের যে ১০ ফল ও সবজি অবশ্যই খাবেন
ভাত না রুটি, ওজন কমাতে ভরসা রাখবেন কিসে?
এসএকেওয়াই/