দেশজুড়ে

নওগাঁয় বাড়ছে ভুট্টার আবাদ

প্রতিনিয়ত পানির স্তর কমে আসায় কৃষিতে স্বল্প সময়ে কম পানিতে রোবিশষ্য আবাদের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। আর এরই অংশ হিসেবে স্বল্প সময়ে ও কম পরিশ্রমে নওগাঁয় ভুট্টা চাষে উজ্জল সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া অনূকুলে থাকায় দিগন্ত মাঠজুড়ে ভুট্টার গাছে সবুজ পাতা লক লক করছে। বাজার দর ভালো পেলে আগামীতে ভুট্টার আবাদ আরো বৃদ্ধি পাবে এমনটাই আশা কৃষকদের।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এবার জেলায় ৬ হাজার ২শ হেক্টর জমিতে উন্নত জাতের ভুট্টার আবাদ করা হয়েছে। এরমধ্যে আত্রাই উপজেলায় ৪ হাজার হেক্টর, রাণীনগরে ৪৩০ হেক্টরসহ জেলার অন্যান্য উপজেলায় কমবেশি আবাদ হয়েছে।এসব জমিতে উন্নতমানের এনকে-৪০, সানসাইন, ৯৮১, প্রিন্স, মিরাকেল ও বন্ধন জাতের ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। গত বছরও ভুট্টার আবাদ হয়েছিল ৫ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে। নওগাঁ জেলায় প্রধান অর্থকারী ফসল ধান। গত কয়েক বছর থেকে কৃষকরা ধানের আবাদ করে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন। সরকার ধানের মূল্য নির্ধারণ করে দিলেও কিছু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকরা ধানের মূল্য পান না। আবার সরকারি গুদামেও ধান দিতে গেলে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয়। গুদামে নির্দিষ্ট পরিমাণ ধান দেওয়ার পর বাজারে খুরচাভাবে বিক্রি করে মূল্য পাওয়া যায় না। দেখা যায়, ধান উৎপাদন করতে যে টাকা খরচ হয় সবকিছু বাদ দিয়ে কৃষকদের হাতে কোনো লাভই থাকে না। এতে করে কৃষকদের লোকসানে পড়তে হয়। আর তাই কৃষকরা এখন ধানের প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দিয়ে স্বল্প পরিশ্রমে ও স্বল্প খরচে অধিক লাভের আশায় ভুট্টা চাষের প্রতি ঝুঁকছেন। আত্রাই উপজেলার পাঁচুপুর ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের কৃষক মেহেদী হাসান বলেন, এবার দুই বিঘা জমিতে উন্নজাতের ৯৮১ ভুট্টার আবাদ করেছি। বিঘা প্রতি খরচ হয় ৪-৫ হাজার টাকা। আর ফলন হয় প্রায় ২৫-৩৫ মণের মতো। ভুট্টার আবাদে খরচও কম আবার পরশ্রিমও কম। দাম ভাল পেলে আগামীতে আরো বেশি পরিমাণ জমিতে ভুট্টার আবাদ করবো।কৃষক আলতাফ হোসেন আড়াই বিঘা জমিতে সানশাইন ও মোরশেদ দুই বিঘা জমিতে ৯৮১ জাতের ভুট্টার আবাদ করেছেন। তারা বলেন, ধানের আবাদে পরিশ্রম বেশি। সে তুলনায় দাম পাওয়া যায় না। কিছু সিন্ডিকেটের কারণে মাঝখান থেকে লাভোবান হয় মধ্যস্বত্তভোগীরা। আর প্রতিবছরই কৃষকদের লোকসান গুনতে হয়। গত বছর কাঁচা ৪শ থেকে ৪৫০ টাকা এবং শুকনা ৫৫০-৬৫০ টাকা পর্যন্ত ভুট্টা বিক্রি হয়েছে। এবার ভালাে দাম পেলেই হয়।আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম কাওছার হোসেন বলেন, বোরো চাষে প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়। বোরো চাষ কমাতে হবে অন্য ফসল বাড়াতে। ভূগর্ভস্থের পানি সঞ্চয় করার জন্য কৃষকদের রবিশষ্যসহ স্বল্প পানি দিয়ে স্বল্প সময়ে ফসল চাষের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। উপজেলার ২৫০ জন কৃষককে ভুট্টা চাষের জন্য প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। আগামীতে ভুট্টার আবাদ আরো বৃদ্ধি পাবে এমনটাই আশা করছেন তিনি।এফএ/আরআইপি