দেশজুড়ে

পিকনিকের বাস দুর্ঘটনা : ড্রাইভারের আসনে ছিলেন হেলপার

যশোরের চৌগাছায় দুর্ঘটনা কবলিত স্কুলের পিকনিক বাসটির ড্রাইভারের আসনে ছিলেন হেলপার মিলন। চৌগাছা শহর থেকে বাসের স্টিয়ারিং হাতে নেয়ার কথা ছিল ড্রাইভার ইব্রাহিমের। কিন্তু তার আগেই দুর্ঘটনায় নিহত হলেন এক শিক্ষক, দুই ছাত্রীসহ পাঁচজন। প্রাণ গেল ড্রাইভারের আসনে থাকা হেলপার মিলনেরও। বুধবার রাতের মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, চৌগাছার বর্ণি রামকৃষ্ণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দিনাজপুরের স্বপ্নপুরী পিকনিক স্পটে বনভোজনে যাওয়ার উদ্যোগ নেয়। বুধবার রাতে তারা যাত্রা করে। ছেলে ও মেয়েদের দুটি বাসে প্রায় একশ জন ছিল। মেয়েদের বহনকারী বাসটিতে (ময়মনসিংহ-ব-০৫-০০১০) যাত্রী ছিল ৫৩ জন। ড্রাইভারের আসনে ছিলেন বাসের হেলপার চৌগাছা মাঠপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মিলন। বাসটি চৌগাছার হাসপাতাল মোড়ে পৌঁছালে মূল ড্রাইভার ইব্রাহিমের স্টিয়ারিং হাতে নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই পুড়াপাড়া সড়কের খড়িঞ্চা এলাকার দানবাক্স নামক স্থানে পৌঁছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি রাস্তার পাশে তালগাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে দুটি তালগাছ ভেঙে পড়ে। বাসটি রাস্তার ওপর উল্টে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। নিহত হন পাঁচজন, আহত হন অন্তত ২৫-৩০ জন। নিহতরা হলেন ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষক জহুরুল ইসলাম, অষ্টম শ্রেণির দুই ছাত্রী রামকৃষ্ণপুর গ্রামের নাসির মোল্লার মেয়ে বৃষ্টি খাতুন ও একই গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে সুমাইয়া খাতুন, বাসের হেলপার চৌগাছা মাঠপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মিলন এবং পথচারী চৌগাছা উপজেলার বাদে খড়িঞ্চ গ্রামের শহীদুল ইসলামের ছেলে মিলন হোসেন।বর্ণি রামকৃষ্ণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, বাসটি হেলপার চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। চৌগাছা উপজেলা সদর থেকে ড্রাইভার বাসে উঠতে চেয়েছিল। বিষয়টি পরে জানতে পেরেছি।তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনায় একজন শিক্ষক ও দুই ছাত্রী, বাসের হেলপার ও একজন পথচারী নিহত হয়েছেন। এছাড়াও অন্তত ২৫-৩০ আহত হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর। তিনজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তারা হলেন, স্কুলের অফিস সহকারী সত্য কুমার নায়েক, অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ইপা ও নিহত সহকারী শিক্ষক জহুরুল ইসলামের ছেলে অভি (১১)।দুর্ঘটনায় আহত নবম শ্রেণির ছাত্রী মাহফুজা আক্তার তুলি বলে, স্কুল থেকে আমরা পৌনে ৯টার দিকে রওনা হই। প্রথমদিকে বাসটি ধীরে যাচ্ছিল। হঠাৎ করেই বাসের গতি বেড়ে যায়। একটু পরই শব্দ হয়ে বাস উল্টে যায়। এ সময় মাথা ঘুরছিল। বাসের মধ্যে সবাই চিৎকার করছিলাম। বাইরে থেকে একজন বললেন জানালায় আসতে। তারপর আমাদের উদ্ধার করলো। মাথায় আঘাত পেয়েছি। একই কথা জানায় দুর্ঘটনায় আহত সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী শাহনাজ পারভীন।যশোর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পরিমল চন্দ্র কুণ্ড জানান, দুর্ঘটনার চিত্র দেখে ধারণা করা হচ্ছে গাড়িটি হেলপার দিয়ে চালানো হচ্ছিল। গাছের সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ায় বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে।এদিকে এই দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর থেকে শুরু করে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। মিলন রহমান/আরএআর/পিআর