লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে স্ত্রীর স্বীকারোক্তিতে স্বামীর গলাকাটা মরদেহ বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরপাতা গ্রামের রেহান উদ্দিন জমাদার বাড়ি থেকে এ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের নাম আবু তাহেরকে (৫২)। এ ঘটনায় স্ত্রী রাবেয়া খাতুনকে (৩৫) আটক করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহের জের ধরে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সহযোগীদের নিয়ে স্বামীকে গলাকেটে হত্যার পর সেপটিক ট্যাংকে গুম করে স্ত্রী। শুক্রবার নিহতের বড় ভাই থানায় আবু তাহেরের নিখোঁজের জিডি (সাধারণ ডায়রি) করলে পুলিশ তদন্তের স্বার্থে স্ত্রীকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদ করলে বেরিয়ে আসে হত্যার রহস্য। উদ্ধার হয় মৃতদেহ। তবে তদন্ত ও গ্রেফতারের স্বার্থে হত্যায় জড়িত অন্যদের নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ।স্থানীয়রা জানায়, নিহত আবু তাহের রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরপাতা গ্রামের মৃত নুরুল হকের ছেলে। ১৬-১৭ বছর আগে রাবেয়া খাতুনের সঙ্গে আবু তাহেরের বিয়ে হয়ে। তাদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় সালিশি বৈঠকও হয়েছে।নিহতের বড় ভাই নুরুল ইসলাম জানান, বুধবার থেকে তার ভাই নিখোঁজ ছিল। আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্যস্থানে খোঁজ নিলেও সন্ধান মিলেনি। এতে শুক্রবার সকালে রায়পুর থানায় একটি জিডি (সাধারণ ডায়রি) করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহ হলে স্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসা করা হয়। এতে সহযোগীদের নিয়ে স্বামীকে গলা কেটে হত্যা করার দায় স্বীকার করে । এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। হত্যায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। কাজল কায়েস/আরএআর/এমএস