পূর্বাঞ্চল রেলপথে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে দিন দিন বেড়েই চলছে টিকিট চেকারদের দৌরাত্ম্য। বিনা টিকিটে ভ্রমণকারী যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে সেই টাকা নিজেদের পকেটেই রেখে দিচ্ছেন তারা। এতে করে বিনা টিকিটে ভ্রমণকারী অসংখ্য যাত্রীর ভাড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।মঙ্গলবার নোয়াখালী থেকে ঢাকাগামী উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠা বেশ কিছু বিনা টিকেটের যাত্রীর কাছ থেকে টাকা আদায় করেছেন এক টিকিট চেকার।ট্রেনটির ‘ঞ’ বগির যাত্রী জোনায়েদ হোসেন জাগো নিউজকে জানান, পরিবারের তিন সদস্য নিয়ে তিনি ঢাকায় যাচ্ছেন। বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে তিনি ট্রেন থেকে নেমে পড়বেন। টিকিট কাউন্টারে আসনযুক্ত টিকিট না পেয়ে বাধ্য হয়ে তিনি দুটি টিকি কালোবাজারিদের কাছ থেকে চড়া দামে কিনেছেন। ট্রেনে ওঠার পর এক টিকিট চেকার তার কাছ থেকে একজনের অর্ধেক ভাড়া হিসেবে ৫০ টাকা নিয়েছেন, তবে কোনো টিকিট দেননি। তাকে বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের গেইট পার করিয়ে দেবেন বলে ওই টিকিট চেকার বলেছেন।আরেক যাত্রী শামছুল আলম জাগো নিউজে জানান, তিনি আশুগঞ্জ থেকে ঢাকার কমলাপুরে যাচ্ছেন। কাউন্টারে টিকিট না পেয়ে বিনা টিকিটেই ট্রেনে ওঠে পড়েন তিনি। টিকিট চেকার তার কাছ থেকে ৩০ টাকা নিয়েছেন।তবে এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি ওই টিকিট চেকার। তিনি তার নাম জানাতেও অপারগতা প্রকাশ করেন।এদিকে, শুধু উপকূল এক্সপ্রেসই নয়, আন্তঃনগর সবকটি ট্রেনেই টিকিট চেকাররা বিনা টিকিটের যাত্রীদের কাছ থেকে প্রকৃত ভাড়া আদায় না করে ২০ থেকে ৫০ টাকা নিয়ে তাদের নিজেদের পকেট ভরছেন। এতে করে বিনা টিকিটের যাত্রীরা যেমন পার পেয়ে যাচ্ছেন, তেমনি রেলের অসাধু এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারণে বিনা টিকিটের যাত্রীদের ভাড়া থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।এ ব্যাপারে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক চৌধুরী মো. ঈশা-ই খলিল জাগো নিউজকে বলেন, প্রমাণসহ অভিযোগ পেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে বিনা টিকিটে ভ্রমণ না করার ব্যাপারে যাত্রীদের আরও সচেতন হতে হবে। যাত্রীররা সচেতন হলেই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।আরএআর/এমএস