দেশজুড়ে

গরিবের অ্যাম্বুলেন্স পায়রা স্পিড বোট সার্ভিস

পটুয়াখালীতে সম্প্রতি চালু হওয়া পায়রা স্পিড বোট সার্ভিস স্বল্প সময়ের মধ্যে জনগণের মাঝে আশা জাগিয়েছে। ইতোমধ্যে এটি গরিবের অ্যাম্বুলেন্স খ্যাতিও পেয়েছে।সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও আন্তরিকতার উদাহরণে পরিণত হয়েছে পটুয়াখালী নৌ-ফায়ার সার্ভিস ঘাট থেকে মির্জাগঞ্জ, সুবিদখালী বন্দর পর্যন্ত চালু হওয়া পায়রা স্পীড বোট সার্ভিস। জানা গেছে, সড়ক পথে পটুয়াখালী থেকে মির্জাগঞ্জ, সুবিদখালী বন্দর পর্যন্ত দেড় ঘণ্টা সময় প্রয়োজন হয়। সমস্য হয়ে পড়ে সড়ক পথে ওই এলাকা থেকে প্রসূতি মায়েদের হাসপাতালে নেয়া। অনেক সময় দেখা যায় প্রসূতি মা রাস্তায় মারা জান অথবা বাচ্চা মারা যায়। আবার কোনো কোনো সময় রাস্তাতেই মায়ের ডেলিভারি হয়ে যায়। তাই ২০১৬ সালের নভেম্বরে নৌ পথে চালু হয়েছে পায়রা স্পিড বোট সার্ভিস। যা মির্জাগঞ্জ, সুবিদখালী বন্দর থেকে পটুয়াখালী পর্যন্ত আশতে সময় নেয় ২০ মিনিট।পায়রা স্পিড বোট সার্ভিস ঘাটে টিকিট কেটে মির্জাগঞ্জ যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন সৈয়দ কিশোর। তিনি বলেন, স্পিড বোর্ড সার্ভিসের মাধ্যমে মাত্র ১৮ মিনিটেই পৌঁছানো যাচ্ছে মির্জাগঞ্জ মাজারে। যেখানে বাসে যেতে সময় লাগে এক ঘণ্টা। ফেরি সমস্যা, রাস্তার সমস্যায় নাকাল মির্জাগঞ্জবাসীর কাছে তাই এটা একটা বড় উপহার। কয়েক মাসের ব্যবধানেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে স্পিড বোট সার্ভিস।একই সময় ওয়াটার ট্যাক্সি ঘাটে কথা হয় আসমা বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমাগো বাড়ি হইতে আমার প্রসূতি মাইয়ারে গাড়িতে আনতে গ্যালে অনেক টাহা লাগবে। আর স্পিড বোর্ডে আইছি হ্যাতে চার জনের চারশ টাহা দিছি।পায়রা স্পিড বোট সার্ভিসের পরিচালক মো. শাহজাহান সিরাজ বলেন, এটি মূলত গ্রামের প্রসূতি মায়েদের জন্য চালু করছিলাম। কিন্তু প্রতিদিন স্পিড বোটে চড়তে রোগী-যাত্রীরা ভিড় করছেন। সকালে যাত্রী কম থাকলেও দুপুরের পর থেকে  চাপ বাড়তে থাকে। প্রতি এক ঘণ্টা পর পর বোট ছেড়ে যায়। সারা দিনে ১২-১৫টা ট্রিপ হয়।তিনি আরও বলেন, প্রতিটি স্পিড বোট ১০ জন যাত্রী ধারণক্ষমতা সম্পন্ন। পটুয়াখালী নৌ-ফায়ার সার্ভিস ঘাট থেকে মির্জাগঞ্জ, সুবিদখালী বন্দর পর্যন্ত যেতে একশত টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। সকাল সাড়ে ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে সেবা দিচ্ছেন পায়রা স্পিড বোট সার্ভিসের কর্মচারীরা। পরবর্তীতে পায়রা স্পিড বোট সার্ভিসের এ সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এফএ/পিআর