দেশজুড়ে

বাল্য বিয়ের নামে পাত্রীর বাড়িতে খাসিভোজ

লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে একই এলাকার কলেজ পড়ুয়া এক ছাত্রের সাথে বিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ঐ কলেজ পড়ুয়ার সাথে এই ছোট্ট মেয়েটির বিয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ঐ ছাত্রীর বাড়ির পালিত খাসিতে  ভুরিভোজ করেছেন এলাকার কিছু মাতব্বর শ্রেণির মানুষ।জানা গেছে, বাউরা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের জয়নাল আলীর ছেলে বাউরা পূনম চাঁদ ভুতোরিয়া কলেজের ছাত্র লিয়ন হোসেন (১৭) একই এলাকার পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে গত ১৬ মার্চ যৌন নির্যাতন করেন। সেদিন সন্ধ্যায় মেয়েটির মায়ের অনুপস্থিতিতে বাড়িতে একা পেয়ে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা চালায়। এ সময় মেয়েটির  চিৎকারে তার ৮ বৎসরের ছোট বোন ও আশপাশের লোকেরা ছুটে এলে লিয়ন পালিয়ে যায়। প্রমাণস্বরূপ লিয়নের পায়ের একটি স্যান্ডেল  মেয়েটির ঘরে পাওয়া যায়।এমন ঘটনায় মেয়েটির বাবা-মা মেয়েটিকে বকা দিলে তার জ্যাঠা মেয়েটিকে ঐ ছেলের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে এগিয়ে আসে কথিত মাতব্বর শ্রেণির কিছু মানুষ। তারা বিয়ে করিয়ে দিতে চেয়ে গরীব ঐ মেয়ের বাবার পালিত খাসির মাংসে নিজেরাই ভোজের প্রাথমিক পর্বটি সম্পন্ন করেন। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে বিয়ে দিতে না পেরে চেপে যান ঐ মাতব্বররা।এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা-মা ও জ্যাঠা মাতব্বরদের নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ। মেয়ের এ দুর্নামে  ভবিষ্যতে মেয়েটির বিয়ে দিতে সমস্যা হবে। তাই মেয়ের বিয়ে দিতে চেয়েছিলাম। এলাকার কিছু মানুষ লিয়নের সাথে মেয়ের বিয়ে দেওয়ার কথা বলে খেতে চাইলে আমরা খাসি জবাই করে খাইয়েছি। এতে আমাদের ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।এ বিষয়ে ছেংছেঙ্গাপানী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জাকেরা বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি  বলেন, ‘আমি কিছু জানি না। তবে মেয়েটি আমার স্কুলের ছাত্রী।’এ ঘটনায় পাটগ্রাম থানা পুলিশের এস আই হেলাল জানান, ‘বাল্যবিবাহ হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে ওসির নির্দেশে ছেলে-মেয়ের বাড়িতে গিয়েছিলাম কিন্তু কাউকে পাইনি। পরবর্তীতে যে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে থানাকে অবগত করতে বলে এসেছি স্থানীয় ইউপি সদস্য ও নের্তৃস্থানীয় ব্যক্তিদের।এমজেড/আরআই