কুমিল্লায় আদালতের নির্দেশে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্তের জন্য সাড়ে চার মাস পর কবর থেকে তানজিনা আফরিন রিমা নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার আলেখারচর গ্রামের একটি কবর থেকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহাগ চন্দ্র সাহার উপস্থিতিতে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। আদালতে অভিযোগ ও রিমার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আদর্শ সদর উপজেলার আলেখারচর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে এক সন্তানের জননী তানজিনা আফরিন রিমা (২৩)। তার স্বামী প্রবাসী মাহবুব আলমের বাড়ি একই উপজেলার বরদৈল গ্রামে। রিমার বাবা অভিযোগ করে বলেন, গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর বরদৈল গ্রামে ননদের গোপন বিয়ের কথা ফাঁস করায় প্রবাসী স্বামী মাহবুব আলমের ইন্ধনে শ্বশুর-শাশুড়ি, ননদসহ কয়েকজন মিলে অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে রিমাকে হত্যা করে। এ ঘটনায় রিমার বাবা বাদী হয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর রিমার স্বামীসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। ওই সময় রিমার মরদেহের ময়নাতদন্ত করেন কুমেক ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. মো. ওমর ফারুক। গত বছরের ২২ নভেম্বর দাখিলকৃত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে রিমা আত্মহত্যা করেছে বলে উল্লেখ করা হয়। এদিকে, রিমার বাবা ওই ময়নাতদন্ত ও সুরহতাল প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি দেন এবং পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য আবেদন জানান। আদালতের নির্দেশে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহাগ চন্দ্র সাহার উপস্থিতিতে বুধবার দুপুরে আলেখারচর গ্রামের একটি কবর থেকে মরদেহটি উত্তোলন করে কুমিল্লা মেডিল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।মো. কামাল উদ্দিন/এএম/এমএস