জলবাযুর বিরূপ প্রভাবের কারণে উপকূলীয় এলাকার মাটি ও পানিতে দিন দিন বাড়ছে লবণাক্ততার পরিমাণ। এর ফলে মানুষের সুপেয় পানির যেমন অভাব দেখা দিচ্ছে তেমনি কৃষি ও মৎস্য চাষ পড়ছে হুমকির মুখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যা প্রতিরোধে এখনই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার যেমন কমাতে হবে, তেমনি প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণও বাড়াতে হবে। পটুয়াখালী মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের তথ্য মতে, ১৯৭৩ সালে পটুয়াখালী জেলায় লবণাক্ত জমির পরিমাণ ছিল ১৩ হাজার ৯৩৫ হেক্টর। ২০০০ সালে লবণাক্ত জমির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১১ লাখ ৫ হাজার ৪০০ হেক্টর। ২০০৯ সালে এর পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১৫ লাখ ৫ হাজার ১৮০ হেক্টরে। তবে সর্বশেষ ২০১৫ সালে দেশে লবণাক্ত জমি চিহ্নিত করার যে জরিপ হয়েছে সে তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি। দিন দিন লবণাক্ত জমির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব জমি অনাবদী হয়ে পড়ছে। প্রাথমিক পর্যায়ের এ সমস্যা সমাধানে মিষ্টি পানি দিয়ে লবণাক্ত জমিতে সেচ দেয়া ও লবণ সহিষ্ণু জাতের ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।মির্জাগঞ্জের শ্রীনগর এলাকার জাফর মৃধা বলেন, শ্রী নগরের খালডা এক্কারে হুগাই গ্যাছে। এই খালের পানি দিয়া জমিনে ধান লাগাইতাম। অনেক মানুষ ওই খালে মাছ ধইররা সংসার চালাইছে। অনেক গৃহস্থ যেদিন বাজারে না যাইতো হেদিন ওই খালের মাছ ধইরা খাইছে।এক কথায় পরিবেশ রক্ষা ও মানুষের বাহ্যিক উপকারে খালটি ছিল এলাকার জন্য আর্শিবাদ। পটুয়াখালী মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির যাচ্ছেতাই ব্যবহার ও প্রাকৃতিক জলাধার কমে যাওয়ায় জেলার নদী ও খালের পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানিতেও লবণাক্তার পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মৃত্তিকা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী জেলার কলাপড়া ও গলাচিপা উপজেলার অধিকাংশ নদীর পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ ২ ডিএস মিটারের বেশি। যা মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ এবং চাষাবাদে ব্যবহারের অনুপোযোগী।এদিকে, লবণাক্ত জমিতে চাষের উপযোগী বিভিন্ন জাতের ফসল থাকলেও লবণাক্ত পানিতে চাষের উপযোগী এখনও তেমন কোনো মাছের জাত আবিস্কৃত হয়নি বলে জানান পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. আবুল হাছানাত।লবণাক্ত কৃষি জমিকে চাষের আওতায় আনতে মিষ্টি পানি দিয়ে সেচ দেয়াসহ কৃষিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারিত জাতের ফসল চাষের পরামর্শ দিলেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর দেলোয়ার হোসাইন।পটুয়াখালী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহমুদ খান বলেন, পটুয়াখালী জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছে বর্তমানে জেলার কিছু কিছু এলাকার টিউবয়েলের পানিতেও মানবদেহে সহনীয় মাত্রার অতিরিক্ত লবনের উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে। তাই ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তারা ভূপৃষ্ঠের পানির ব্যবহার বড়াতে কাজ করছেন।মাটি ও পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধির যে সমস্যা তা সমাধানে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আরো গবেষণা এবং সাধারণ মানুষের মাঝে এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এফএ/জেআইএম