দেশজুড়ে

সুরঞ্জিত সেনের মৃত্যুতে সুনামগঞ্জে শোকের ছায়া

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাংসদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। বর্ষীয়ান এই আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যুতে শোকে কাতর তার নির্বাচনী এলাকা সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) সহ পুরো সুনামগঞ্জবাসী। তার মৃত্যুতে দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তিনদিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে।দলীয় সত্রে জানা গেছে, সোমবার বেলা ১১টায় তার মরদেহ নিজ জেলা সুনামগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হবে। এ দিন দুপুর ১টায় তার নির্বাচনী এলাকা শাল্লা এবং বিকেল ৩টায় দিরাই উপজেলায় তার মরদেহ সাধারণ মানুষের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে  শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুতে তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক অ্যাডভোকেট রঞ্জিত সরকার জাগো নিউজকে বলেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ছিলেন গোটা বাংলাদেশের অহংকার। আমরা একজন বর্ষীয়ান নেতাকে চিরতরে হারিয়েছি।সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সাংসদ আলহাজ মতিউর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সুনামগঞ্জের এক অভিসংবাদিত নেতা ছিলেন। সংবিধানে তার একটা অবদান ছিল। দেশের স্বার্থে অনেক অবদান রেখে গেছেন তিনি। তার মৃত্যুতে জেলা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা গভীরভাবে শোকাহত। তিনি কেবল জাতীয় নেতাই ছিলেন না, ব্যক্তিগতভাবে আমার বন্ধুও ছিলেন। আমি একজন বন্ধুকে হারিয়েছি। আমি শোকাহত।  জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা মুকুট জাগো নিউজকে বলেন, রাজনৈতিকভাবে সেনবাবু ছিলেন আমাদের অভিভাবক, সুনামগঞ্জের আওয়ামী লীগের অভিভাবক হিসেবে তিনি আমাদেরকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে উপদেশ দিয়ে পরিচালনা করেছেন। রাজনৈতিক ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের বিদায় হয়েছে, আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তার অভাব পূরণ করতে আমরা আরেকজন সেনবাবু পাব কি না সে ব্যাপারে আমরা খুব চিন্তিত। কারণ তার অভাব পূরণ করার মতো সিলেট বিভাগে এখনো কেউ জন্মগ্রহণ করেননি। তার মৃত্যুতে সুনামগঞ্জ জেলা রাজনৈতিকভাবে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। সুনামগঞ্জ-মৌলভীবাজার সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুন নাহার বেগম শাহানা রব্বানী জাগো নিউজকে বলেন, আমরা শুধু বাংলাদেশের নয় উপমহাদেশের একজন বিখ্যাত অভিভাবক হারিয়েছি। আমরা গভীরভাবে শোকাহত।   প্রসঙ্গত, রোববার ভোররাত সোয়া ৪টার দিকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকাবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন প্রবীণ পার্লামেন্টারিয়ান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।  ১৯৪৬ সালে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার আনোয়ারপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। ছাত্রজীবনেই তিনি বামপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। হাওরাঞ্চলের “জল যার জলা তার” আন্দোলনে দীর্ঘদিন তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। দ্বিতীয়, তৃতীয়, পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, নবম এবং দশম জাতীয় সংসদসহ মোট সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার পর তিনি রেলমন্ত্রী হন। তবে তার সহকারীর অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে তিনি পদত্যাগ করলেও তা গ্রহণ না করে সেই সময়ে তাকে মন্ত্রী হিসাবে রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে সত্তরের নির্বাচনেও তিনি প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। রাজু আহমেদ রমজান/আরএআর/এমএস