‘আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষৎ, আর নয় শিশু শ্রম, এবার চাই শিক্ষা’ স্লোগান নিয়ে হেঁটে পুরো দেশ সফলভাবে ভ্রমণ শেষ করেছেন উদীয়মান তরুণ শিক্ষার্থী রোভার স্কাউট নাসিম তালুকদার।মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১টায় দিনাজপুর গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে এসে যাত্রা সমাপ্ত করেন নাসিম। এ সময় জাগোনিউজ২৪.কম-এর দিনাজপুর প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সংগঠন ও জনপ্রতিনিধিরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।দেশ ভ্রমণের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা জানতে কথা হয় নাসিমের সঙ্গে। জানা যায়, রোভার স্কাউট নাসিম তালুকদারের হেঁটে দেশভ্রমণ করতে সময় লেগেছে ১০৮ দিন। নির্ধারিত সময়ের ২২ দিন আগেই ভ্রমণ সমাপ্ত হলো তার।দিনাজপুর জিরোপয়েন্ট থেকে রোভার স্কাউট নাসিম তালুকদার হেঁটে গত ২২ অক্টোবর দেশ ভ্রমণে বের হন। মঙ্গলবার ৭ ফেব্রুয়ারি বেলা পৌনে ১টায় দিনাজপুর জিরোপয়েন্টে এসে যাত্রা সমাপ্ত হয় তার।এর আগে দিনাজপুরের প্রবেশ মুখে দশ মাইল মোড়ে তাকে দিনাজপুর রোভার স্কাউটের সম্পাদক জহুরুল হকের নেতৃত্বে শতাধিক রোভার তাকে সংবর্ধনা জানান। পরে তারা সবাই নাসিম তালুকদারের সঙ্গে হেঁটে দিনাজপুরে আসেন। নাসিম তালুকদার জানান, প্রতিদিন গড়ে ৩৫-৪০ কি. মি. রাস্তা হাঁটেন তিনি। হেঁটে দিনাজপুর, বিরামপুর হয়ে ১৩০ দিনে দেশ ভ্রমণ করে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও হয়ে দিনাজপুরে এসে সমাপ্ত হয় তার এ ভ্রমণ।দিনাজপুরের জিরোপয়েন্টে তাকে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। দিনাজপুর পৌরসভার কাউন্সিলর আবু তৈয়ব আলী দুলাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ারুল কাদির জুয়েলসহ সাংবাদিকরা ফুল দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান।দিনাজপুর কেবিএম কলেজ থেকে সদ্য এইচএসসি পাস করা শিক্ষার্থী মো. নাসিম তালুকদার এক ভাই ও দুই বোনের মধ্যে বড়। মা নাসিমা খানম বাকপ্রতিবন্ধী। পেশায় গৃহিণী। বাবা হারুনুর রশিদ বাচ্চু পেশায় কৃষক।ছোটবেলা থেকে নাসিম তালুকদারকে লালন পালন করেছেন তার নানি দিনাজপুর উপশহর ৫ নং ব্লকের বাসিন্দা রহমত আরা।নাসিম তালুকদার বলেন, ২০০৬ সালের আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার হিসাব অনুযায়ী দেশে প্রায় ৭৪ লাখ শিশু শ্রমবাজারের বিভিন্ন কর্মস্থলে নিয়োজিত। এদের মধ্যে ১৩ লাখ শিশু অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কাজে রয়েছে।তবে বেসরকারি পরিসংখ্যানের হিসাবে দেখা গেছে, দেশে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা ৭০ লাখ। আর ঝুঁকিপূর্ণ শিশু শ্রমিকের কাজ করছে ১৫ লাখ। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী ১৪ বছরের নিচের শিশুরা কেউ কোনো ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে না। অথচ এটি বাস্তবায়নের কোনো লক্ষণই দেখা যায় না।যাত্রা সমাপ্ত করে কেমন লাগছে জানতে চাইলে নাসিম তালুকদার বলেন, এটি তার জীবনের সবচেয়ে বড় সফলতা। চলার পথে সবার সহযোগিতাকে স্মরণ করে তিনি বলেন, মানুষের কাছে যে পরিমাণ সহযোগিতা আশা করেছি, তার চেয়ে অনেক বেশি সহযোগিতা পেয়েছি। এজন্য সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।এমদাদুল হক মিলন/এএম/জেআইএম