দেশজুড়ে

বাড়ি ফিরেছে বরগুনার নির্যাতিত ১৪টি হিন্দু পরিবার

দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বখাটে সন্ত্রাসীদের নীরব নির্যাতনের শিকার হয়ে নিজেদের ভিটে-মাটি ছেড়ে বরগুনা শহরের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেন বরগুনার তালতলী উপজেলার চন্দনতলা গ্রামের ১৪টি হিন্দু পরিবার।  ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় গ্রামবাসী ও বরগুনার সচেতন মহলের দাবির প্রেক্ষিতে এসব পরিবারকে নিজেদের ভিটায় পূর্ণবাসনের উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন।মঙ্গলবার সকালে বরগুনার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে নিজেদের ঘরে ফেরে এসব পরিবারের নারী ও শিশুসহ প্রায় ৯০ সদস্য।এ ঘটনায় আঃ রশিদ নামের একজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও এখনও  ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে নেপথ্যের নায়ক স্থানীয় প্রভাবশালী দুই যুবলীগ নেতা জাকির সরদার ও আঃ সালাম। ফলে নিজেদের বসত ভিটায় ফিরতে পারলেও এখনও পর্যন্ত শঙ্কামুক্ত হতে পারছে না নারী ও শিশুসহ এসব পরিবারের সদস্যরা।মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় কমিউনিটি পুলিশিং-এর আয়োজনে এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নির্যাতিত পরিবারের সদস্যদের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় অধিবাসী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান বরগুনার জেলা প্রশাসক মীর জহুরুল ইসলাম।এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেসব পরিবারের মাঝে দুই বান্ডিল করে ঢেউটিন, নগদ ছয় হাজার করে টাকা,  ত্রিশ কেজি চাল, পাঁচ কেচি আলু ও দুই কেজি করে তেল, ডাল, পেঁয়াজ, লবণ ও চিড়া বিতরণ করা হয়।নির্যাতিত পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনার পেছনের মানুষগুলোর পরিচয় যাই হোক না কেন, শীঘ্রই প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি এসব পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তায় বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রাখবে বরগুনার পুলিশ।জেলা প্রশাসক মীর জহুরুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যেই নির্যাতিত পরিবারের মাঝে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও সরকারের সমাজ সেবা, সমবায় এবং যুব ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে তাদের পূণর্বাসনের সকল প্রকার সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে।এমজেড/আরআই