পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নে কুরুম নদীর ওপর নির্মিত সড়ক সেতুর ১০ ফুট এলাকার মধ্যে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন প্রভাবশালীরা। এতে সেতুর নিচে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়ে পাশের মাটি ভেঙে পড়ছে। গভীর থেকে বালি উত্তোলনে সামনের বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে হুমকির মধ্যে পড়বে সেখানকার সড়ক সেতুটি।স্থানীয়রা জানায়, জেলা সদরে চাকলাহাট হয়ে কহুরুহাট এবং রতনিবাড়ী এলাকার কয়েক হাজার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম কুরুম নদীর ওপর নির্মিত এই সংযোগ সেতু। প্রতিদিন এই সেতুর ওপর দিয়ে কয়েকশ যানবাহন চলাচল করে। সড়কের ওপর অনেক আগে নির্মিত একটি লোহার সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পাশে একটি বড় সেতু নির্মাণ করা হয়। কিন্তু প্রায় এক মাস ধরে স্থানীয় প্রভাবশালী বজলুর রশিদ সরকার লাজুসহ দুই প্রভাবশালী কাউকে তোয়াক্কা না করে সেতুর নিচে ড্রামের ওপর কাঠ দিয়ে ভাসমান নৌকায় ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে। সেতু থেকে মাত্র ১০ ফুট এলাকার গভীর থেকে বালু উত্তোলন করার কারণে হুমকির মুখে সেতুটি। অন্যদিকে গভীর থেকে বালি উত্তোলনে সেখানে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে বেরিয়ে পড়েছে পাশের এলাকার গাছের শিকড়।বালি উত্তোলনের কথা স্বীকার করে বজলুর রশিদ লাজু জানান, অনেকদিন ধরে এখানে স্বপন নামে একজন বালু উত্তোলন করছিল। তার বালু তোলা শেষ হলে আমি কয়েকদিন থেকে দ্রুত কাজের জন্য ড্রেজার দিয়ে বালু তুলছি। স্বপন বালু তোলার সময় কেউ বাধা না দেয়ায় আমিও তুলছি।চাকলাহাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা জামিল হোসেন বলেন, বালু তোলার খবর পেয়ে আমি লোক পাঠিয়ে বালু তোলা বন্ধ করে দেওয়ায় আমাকে মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। চাকলাহাট ইউপি চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন বলেন, কারও কোনো অভিযোগ না থাকায় আমি বিষয়টি তেমন করে দেখিনি। এছাড়া কুরুম একটি ছোট নদী। বর্ষা এলে বন্যার পানির তোড়ে এমনিতেই গর্ত ভরাট হয়ে যাবে। সেতুর কোনো ক্ষতি হবে বলে আমি মনে করি না। জেলা প্রশাসক অমল কৃষ্ণ মন্ডল জানান, কেউ এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ করেনি। তাই বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে তিনি জানান।সফিকুল আলম/এফএ/এমএস