শাহরাস্তিতে পল্লী চিকিৎসক ডা. মো. আনোয়ার উল্লাহকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় ২০ দিনেও কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি হত্যার কোনো রহস্যও উন্মোচন করা সম্ভব হয়নি। এদিকে এমন নৃসংশ হত্যার ঘটনার কোনো রহস্য উদঘাটিত না হওয়ায় আতঙ্কে রয়েছে পরিবারটি। অবশ্য পুলিশ বলছে ক্লু-বিহীন খুনের রহস্য বের করতে একটু সময় লাগলেও দ্রুতই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এলাকাবাসী জাগো নিউজকে জানায়, খুন হওয়া আনোয়ার স্থানীয় নাওড়া ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসা সহকারী (বর্তমানে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার) হিসেবে দীর্ঘদিন কর্মরত থেকে ১৯৯১ সালে অবসর গ্রহণ করেন। অবসর গ্রহণের পর সাধারণ দুস্থ মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন তিনি। স্থানীয় গরিব দুস্থদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ দিতেন তিনি। কেউ অসুস্থ হলেই দিনে কি রাতে সব সময়ই ছুটে যেতেন এবং চিকিৎসা সেবা দিতেন। কান্নামাখা কণ্ঠে স্থানীয় শাহজাহান মিয়া, আনোয়ার হোসেন ও মোহাম্মদ মোস্তফাসহ বেশ কয়েকজন জাগো নিউজকে জানান, এমন একজন ভালো মানুষকে গভীর রাতে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে বাড়ির পাশেই নিজস্ব ফার্মেসির সামনে তাকে গলা কেটে নৃসংশভাবে হত্যা করা হবে এটা আমরা কেউ মানতে পারছি না। খুনের ঘটনায় আনোয়ার উল্লাহর ছোট ছেলে মোশারফ হোসেন শাহরাস্তি থানায় মামলা করেন। এলাকাবাসী কয়েক দফায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করলেও পুলিশ কোনো আসামি বা কোনো রহস্য খুঁজে বের করতে না পারায় আতঙ্কে দিন কাটছে স্বজনদের। আনোয়ারের মেজ ছেলে ডা. মিজানুর রহমান ও ছেলের বউ নাজমা বেগম জাগো নিউজকে জানান, আমরা কিছুতেই এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না। গত ১৫ দিনে পুলিশ কী করলো তাও বুঝতে পারছি না। আমরা চাই যত দ্রুত সম্ভব আসামিদের চিহ্নিত শেষে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক। শাহরাস্তি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, ইস্যুহীন এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত খুব সতর্কতার সঙ্গে করা হচ্ছে। আমরা খুনের মূল রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছি। আশা রাখছি খুব শিগগিরই একটা ভালো ফলাফল পাবো। ইকরাম চৌধুরী/এফএ/এমএস