বরিশাল-পটুয়াখালী ও কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়কে আনির্দিষ্টকালের জন্য বাস ধর্মঘট চলছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনরত বাস শ্রমিকরা। এতে বিপাকে পড়েছে পর্যটকসহ সাধারণ মানুষ। এ রুটে অবৈধ মাহেন্দ্র, ইজিবাইক ও ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল বন্ধ করাসহ আটক বাস মালিক, শ্রমিকদের মুক্তির দাবিতে তারা এ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। বাসের জন্য অপেক্ষারত বরিশাল এলাকার সুমনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, আমি কুয়াকাটা থেকে ভেঙে ভেঙে পটুয়াখালী পর্যন্ত এসেছি। এখন বরিশাল যাব কিন্তু বরিশাল যাওয়ার কোনো বাস পাচ্ছি না।কথা হয় ঢাকা থেকে কুয়াকাটা ভ্রমণে আসা মিসেস লাইলী আক্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে কুয়াকাটা দেখতে আসছি। বাস বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছি।বাউফল উপজেলার কেশবপুর গ্রাম থেকে আসা কুদ্দুস হাওলাদার বলেন, আমি জানিও না যে অবরোধ চলতেয়াছে। বাসা থেকে আইছি এহন দেহি ধর্মঘটের জন্য বাস বন্ধ। এ ব্যাপারে সরকার বা প্রশাসন যদি কিচু করে তবে ভালো হতো। আমরা গাড়ি লইয়া গ্যালে গাড়ি জ্বালাইয়া দেবে। আন্দোলনরত সুমন নামে এক শ্রমিক জানান, মহাসড়কে অবৈধ মাহেন্দ্র, ইজিবাইক ও ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলের জন্য বাসে যাত্রী খুব কম হয়। এই কারণে আমরা মাঠে নেমেছি। এ ব্যাপারে বরিশাল-পটুয়াখালী-বরগুনা মালিক শ্রমিক সমন্নয় পরিষদ আহ্বায়ক মো. রিয়াজ উদ্দিন মৃধা জাগো নিউজকে বলেন, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বরিশাল-বরগুনা ও কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়কে দাবি না মানা পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।উল্লেখ্য, গত সোমবার সকাল ১০টায় বরিশাল-পটুয়াখালী ও কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহা সড়কের আমতলী চৌ-রাস্তা নামক স্টপেজে মাহেন্দ্রা শ্রমিক ও বাস শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেখানে বেস কয়েকজন বাস মালিক ও শ্রমিক আহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ ১৭ জন শ্রমিককে আটক করে বলে দাবি করে বাস সমিতি। পরে ১৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার সন্ধা সাড়ে ৭টায় পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল-পটুয়াখালী-বরগুনা মালিক শ্রমিক সমন্নয় পরিষদের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে বরিশাল-পটুয়াখালী বাস মিনিবাস মালিক সমিতির নিবার্হী সভাপতি নজরুল ইসলাম খোকন এ ঘোষণা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ করছেন বাস মালিক ও শ্রমিকরা। মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এফএ/পিআর