ক্ষমতার দাপটে আইনকে অবজ্ঞা ও তুচ্ছ করে হাইস্কুল মার্কেটের একটি ওষুধের দোকানে তালা ঝুঁলিয়েছেন বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন। এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার দোকানপাট বন্ধ রাখেন বাজার ব্যবসায়ীরা। মেয়রের এই কাণ্ডে অাজ সোমবার থেকে বেনাপোল বাজার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে বলেও জানান তারা।শনিবার বেনাপোল হাইস্কুল মার্কেটের এনএন ফার্মেসিতে অবৈধভাবে এ তালা ঝুঁলানোকে কেন্দ্র করে রোববার দিনব্যাপী বেনাপোল বাজারের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রাখেন বাজার ব্যবসায়ীরা। এ নিয়ে বেনাপোল বাজারে চরম উত্তেজনা বিরাজ করেছে। এখনই বেনাপোল পৌর মেয়রের অবৈধ হস্তক্ষেপসহ ওই ওষুধের দোকানের তালা খুলে না দিলে যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা বাজার ব্যবসায়ীদের। জানা যায়, বাংলাদেশ স্বাধীনতার পরে অ-গোছালো বেনাপোল বাজারে কয়েকটি ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে একটি হাট শুরু হয়। ধীরে ধীরে সেখানে খণ্ড খণ্ড দোকানপাট বসতে বসতে একটি বৃহৎ শহর গড়ে ওঠে। আর সে থেকে অর্থাৎ ৮০’র দশকে বেনাপোল হাইস্কুলের সামনে একটি মার্কেট গড়ে উঠলে সেলামির মাধ্যমে এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল একটি দোকান নেন। পরে আব্দুল জলিল মারা গেলে তার ছেলে এনএন ফার্মেসি নামে একটি ওষুধের দোকান করেন। সে থেকে ওষুধের এ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসা পরিচালনা ও স্কুল কমিটির সঙ্গে সখ্যতা বজায় রেখে চলেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, স্কুল কমিটির পালা বদলে ইতোমধ্যে বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন ক্ষমতার দাপটে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদ দখল করেন। এখন তার ইচ্ছা পুরাতন সব ব্যবসায়ীদের হটিয়ে সেখানে নিজ পছন্দের নতুন ব্যবসায়ীদের বসানো। আর তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেবেন লাখ লাখ টাকা। সে হিসেবে প্রথমেই তিনি পুরাতন এ ব্যবসায়ীকে বিভিন্ন শর্তের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা অন্যথায় দোকান ছেড়ে দেওয়ার আদেশ প্রদান করেন। কিন্তু বাবার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা ছেড়ে চলে যেতে হবে এটা মেনে নিতে পারেননি বর্তমান এনএন ফার্মেসির ব্যবসায়ী মনির হোসেন। তিনি মেয়রের কাছে অনুনয় বিনয় করে এবং আইনের মধ্যে থেকে কমিটির কার্যক্রম পরিচালনার কথা বললেও ক্ষমতার দাপটে তিনি তা মেনে নিতে পারেননি। বলেছেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরিয়ে না নিলে তাকে জোর করে সরিয়ে দেয়া হবে। প্রয়োজনে দোকান ঘর তালা মেরে দেয়া হবে। মেয়রের হস্তক্ষেপ ও আপত্তিজনক প্রস্তাব মানতে না পেরে তার থেকে মুক্তি পেতে এনএন ফার্মেসির পরিচালক মনির হোসেন আইনের আশ্রয় নেয়। যশোর আদালতে ৭ ফেব্রুয়ারি একটি মামলা রুজু করেন। মামলা নং-০৩, যা আদালত গ্রহণ করেছেন।বিষয়টি মেয়র লিটন জানতে পেরে শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সদলবলসহ কৌশলে হাইস্কুলের কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের দিয়ে ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুঁলিয়ে দেয়। যা আইনগত বিরোধী বলে ব্যবসায়ীদের দাবি।এর সঙ্গে মেয়রের অবৈধ হস্তক্ষেপের কারণে বাজার ব্যবসায়ীরা আতঙ্কবোধ বিরাজ করছে বলে জানালেন অনেক ব্যবসায়ী। তারা বলছেন মনির হোসেনের দিয়ে শুরু করেছেন আর যার রোলার চালানো হবে হাইস্কুল মার্কেটের সব ব্যবসায়ীর ওপর।এ বিষয়ে বেনাপোল বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বাজার ব্যবসায়ীদের ওপর এহেন অত্যাচার খুবই দুঃখজনক। যার ন্যায় বিচার এখনই প্রয়োজন। তা না হলে সোমবার থেকে বেনাপোল বাজার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হবে।এদিকে ওষুধের দোকানে তালা মারার প্রতিবাদে রোববার বেনাপোল বাজারের সব ওষুধের দোকান ধর্মঘট পালন করে।মো. জামাল হোসেন/জেডএ/আরআইপি