ঝিনাইদহ জেলায় এবারও সুস্বাদু বাউ ও আপেল কুলের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে প্রকৃত দাম না পাওয়ার কারণে হতাশ চাষিরা। চাষিদের অভিযোগ, পচনশীল পণ্য হওয়ার কারণে এক রকম বাধ্য হয়েই কম দামে কুল তুলে দিতে হচ্ছে ব্যাপারীদের হাতে। বাজারে অধিক দাম হলেও তার সুফল পাচ্ছে না প্রান্তিক চাষিরা।জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ জেলার ছয়টি উপজেলার মধ্যে কোটচাঁদপুর, কালীগঞ্জ, মহেশপুর ও সদর উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে হাইব্রিড বাউ ও আপেল কুলের চাষ। পর পর কয়েক বছর ভাল দাম পাওয়ায় এবার আরো বেশি কুলের আবাদ হয়েছে জেলায়। কুলের আবাদ করে অল্প সময়ে অধিক লাভের আশায় কুল চাষে ঝুঁকে পড়েছেন জেলার কয়েকশ কৃষক। গত বছর ২৫০ হেক্টর জমিতে এ দুই কুলের চাষ হলেও এ বছর চাষ হয়েছে ২৮৫ হেক্টর জমিতে।কালীগঞ্জের মান্দার বাড়িয়া গ্রামের কুল বাগানের মালিক মিঠু মিয়া জানান, এবার সাত বিঘা জমিতে কুল চাষ করেছেন। গত বছরের তুলনাই এ বছর ফলন ভালো হওয়ায় বেশ লাভবান হয়েছেন তিনি। প্রথম দিকে ভালো দাম পাওয়া গেলেও বর্তমানে দাম কমে যাওয়ায় কিছুটা হতাশ কৃষকরা। তিনি বলেন, মান্দার বাড়িয়া গ্রামে এ বছর প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে কুলের চাষ করছেন কৃষকরা। প্রতিদিন মান্দার বাড়িয়া গ্রাম থেকে দুই ট্রাক করে কুল যাচ্ছে যাত্রাবাড়ি, চিটাগাং, ওয়াচ ঘাটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। বাজারে ২০-৩০ টাকা দরে বিক্রি হলেও আমাদের বেচতে হচ্ছে ১০-১২ টাকায়।সলেমান হোসেন নামের এক কুলচাষি জানান, তারা এ অঞ্চলে পাঁচ বছর ধরে কুল চাষ করে আসছেন। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার আজ পর্যন্ত এক দিনও কৃষি অফিস থেকে কেউ এই মান্দার বাড়িয়া গ্রামের কুল চাষিদের দেখতে আসেননি। তাদের কাছ থেকে আজ পর্যন্ত কোনো পরামর্শও মেলেনি।তিনি বলেন, কৃষি অফিসারদের পরামর্শ পেলে আগামীতে আমরা অধিক ফলন ফলাতে পারবো বলে আশাবাদী। এছাড়া সরকার যদি কুলচাষিদের সাহায্য করে তাহলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও এ কুল রফতানি করা যাবে। কুলচাষি সলেমান জানান, রোপণের ছয় মাসের মধ্যে শাখায় শাখায় বাহারি ফুল-ফলে ভরে যায়। পূর্ণ বয়স্ক একটি গাছ থেকে ১৫০ থেকে ২০০ কেজি পর্যন্ত কুল পাওয়া সম্ভব। বিঘা প্রতি কুল চাষের খরচ পড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা, আর উৎপাদন হয় ৭৫ থেকে ৮০ মণ কুল।ঝিনাইদহ জেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. শাহ মো. আকরামুল হক বলেন, কৃষি অফিসাররা মাঠে যান না তা অনেকাংশে সত্যি নয়।তিনি বলেন, ঝিনাইদহের মাটি ও আবহাওয়া এ জাতীয় হাইব্রিড কুল চাষের জন্য উৎকৃষ্ট। অনাবাদি জমি, বসতবাড়ির আশপাশসহ বিভিন্ন মাঠে শুধু কুলের গাছ হয়। এর বোটা শক্ত তাই ঝড় বাতাসেও ঝরে পড়ার কোনো ভয় থাকে না। জেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, কুলের প্রকার ভেদে দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। ভালো জাতের কুল কৃষকরা বিক্রি করছেন ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজি হিসেবে। আর পাইকাররা বিক্রি করছেন গড়ে প্রতি কেজি ১৫ থেকে ২৫ টাকায়। ফলে কুলচাষিরা দাম পাচ্ছেন সামান্য। আহমেদ নাসিম আনসারী/আরএআর/আরআইপি