নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের একটি শিল্প কারখানায় চাঁদা চাওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশের দুই এসআইকে সাময়িক প্রত্যাহার করা হয়েছে।এছাড়াও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মতিউর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে অবিলম্বে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।এদিকে পুলিশের সহযোগিতায় থাকা তিন যুবক জয়নাল, শামীম ও হাবিবুর রহমান হাবিবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বাড়ি সোনারগাঁও উপজেলায়।সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (খ অঞ্চল) সাজিদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।তিনি জানান, এসআই আমিনুল ও এসআই আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে চাঁদার অভিযোগের কারণে দুইজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।প্রসঙ্গত, রোববার রাতে সোনারগাঁও উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের মিরেরবাগ এলাকায় সোনারগাঁও থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ও আব্দুল লতিফ তাদের সঙ্গীয় দুই কনস্টেবল নিয়ে সাদা পোশাকে রোববার রাত ৭টায় মিরেরবাগ এলাকায় কাউছার টেক্সটাইল মিলের আশপাশে অবস্থান নেয়। এসময় স্থানীয় কারাবন্দি সন্ত্রাসী ও মাদক বিক্রেতা হিমেলের স্ত্রী রুমা আক্তারকে কৌশলে ওই শিল্পকারখানার ভেতরে পাঠিয়ে শিল্প মালিক বিল্লাল হোসেনের অবস্থান নিশ্চিত করে। পরে এসআই আমিনুল ও আব্দুল লতিফ, দুই কনস্টেবল ও স্থানীয় সন্ত্রাসী হাবিবুর রহমান হাবিব, মিঠু, গোলজার, জয়নালকে সঙ্গে নিয়ে ওই শিল্পকারখানার ভেতরে প্রবেশ করেন। এক পর্যায়ে কারখানা মালিক বিল্লাল হোসেনকে আটক করে মারধর করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এসময় ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন মারধরের শিকার হয়ে ডাকাত বলে চিৎকার শুরু করেন। বিষয়টি এলাকাবাসী শুনতে পেরে স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে তাদেরকে অবরুদ্ধ করেন। পরে অবরুদ্ধদের মধ্যে দুইজন নিজেকে থানা পুলিশের এসআই ও দুইজন কনস্টেবল বলে দাবি করেন। পুলিশ সদস্য অবরুদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-অঞ্চল) সাজিদুর রহমান ও সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম ওবায়েদুল হক রাত ১০টায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে রাত সাড়ে ১১টায় তাদের উদ্ধার করে।শাহাদাৎ হোসেন/এফএ/জেআইএম