বাংলা ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ বরণে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজে চলছে নানামুখী প্রস্তুতি। পুরোনো সব জীর্ণতা ও গ্লানি মুছে চৈত্রের দাবদাহ ও রুক্ষতা পেরিয়ে প্রকৃতিতে এখন নতুন বছরের আগমনী বার্তা। এ উপলক্ষ্যে কলেজে এখন চলছে অন্যরকম উৎসবমুখর পরিবেশ। বৈশাখের প্রথম সকালকে বর্ণিল রূপ দিতে সেখানে দিনরাত এক করে কাজ করছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
বর্ষবরণ উপলক্ষ্যে এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ’। সমাজে ঐক্য, সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পুনরুজ্জীবনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এই প্রতিপাদ্যের মূল লক্ষ্য।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে কলেজ প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, শোভাযাত্রার বিভিন্ন কাঠামো তৈরিতে ব্যস্ত শিক্ষার্থীরা। বাঁশ আর কাঠের সাহায্যে ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাচ্ছে একেকটি প্রতীকী অবয়ব। পথে আলপনা আঁকা, জলরঙে গ্রামবাংলার দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা, বাঘ, প্যাঁচাসহ নানা কল্পিত চরিত্রের মুখোশ তৈরির কাজ।
এছাড়া কলেজ ক্যাম্পাসের প্রতিটি রাস্তা রঙ-তুলির আঁচড়ে ফুটে উঠছে দেশজ সংস্কৃতির নানা চিত্র। শিক্ষার্থীদের তৈরি এসব শিল্পকর্ম দেখতে ভিড় করছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।
বৈশাখী শোভাযাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, বাংলা নববর্ষ আমাদের শেকড়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এবার কলেজে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বর্তমান সময়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বার্তা তুলে ধরা হবে। ভোরের আলোয় মোরগের ডাক যেমন নতুন দিনের জানান দেয়, তেমনি এবার পহেলা বৈশাখ নতুন জাগরণের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হবে।
এদিকে বর্ষবরণ ঘিরে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাড়াও জেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন আয়োজন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
এম এ মালেক/এনএইচআর/এমএস