দেশজুড়ে

ভাষা সৈনিক মতিনের এলাকার শহীদ মিনারগুলো নদী গর্ভে

আমাদের মহান রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের অবিস্মরণীয় ও অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী সিরাজগঞ্জের কৃতি সন্তান ভাষা আন্দোলনের সংগ্রামী পুরুষ আব্দুল মতিন। অথচ ভাষা মতিনের জন্মভূমি সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনার না থাকায় শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে পারছেন না। এমনকি কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতেও পারছে না।উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, চৌহালী উপজেলায় ৫টি কলেজ, ২৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ১৭টি মাদরাসা ও উপজেলায় ১২৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২২টি এবতেদায়ী মাদরাসা, ১৩০টি আনন্দ স্কুল, ৩৬টি ইসলামিক ফাউন্ডেশন স্কুল, ২০টি কেজি স্কুল ও কৃষি মাঠ স্কুল রয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি নতুন প্রাইমারি স্কুল প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই কোনো শহীদ মিনার। ভাষা মতিনের জন্মভূমি চৌহালী উপজেলার প্রতিষ্ঠিত কলেজ ও বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীরা জানে না মহান ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস। এলাকা ঘুরে জানা গেছে, যমুনার ভাঙন কবলিত উপজেলা চৌহালী। এই উপজেলায় অবস্থিত চৌহালী ডিগ্রি কলেজ, খামারগ্রাম ডিগ্রি কলেজ ছাড়া গ্রামাঞ্চলের যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার রযেছে সেগুলো রয়েছে অযত্ন অবহেলায়। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একুশে ফেব্রুয়ারির দিন বন্ধ থাকে। এর মধ্যেও কোনো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার বানিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানান। আবার কোনো প্রতিষ্ঠানে দিবসটি পালনই করা হয় না। একারণে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ভাষা আন্দোলন কিংবা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতে পারছে না।খাষকাউলিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী রোকসানা খাতুন জানায়, আমরা টেলিভিশনে প্রতি বছরই দেখি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রভাতফেরি ও শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়। আমাদের বিদ্যালয়গুলোতে শহীদ মিনার না থাকায় আমরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে পারছি না। শিক্ষার্থীরা সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোতে শহীদ মিনার নির্মাণও দাবি জানান।কোদালিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলাউদ্দিন জানায়, ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর শিক্ষকরা ভোরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে বলেন। এরপর পতাকা উত্তোলন করে শিক্ষার্থীরা যার যার মতো করে বাড়ি ফিরে যায়। শহীদ মিনার না থাকায় শহীদদের যথাযথভাবে শ্রদ্ধা জানাতে পারে না।জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র রহিম সেখ জানায়, শহীদ মিনার না থাকায় আমরা ছাত্র-ছাত্রীরা বাস দিয়ে অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার তৈরি করে ফুল দিয়ে শহীদদের সম্মাননা জানাই। সরকারি উদ্যোগে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার স্থাপনের দাবি জানিয়ে চৌহালী উপজেলা ম্যাধমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কাশেম ওবাইদ বলেন, যমুনার ভাঙন কবলিত উপজেলা চৌহালী। এই উপজেলার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শহীদ মিনার ছিল। কিন্তু যমুনার ভাঙনে সে প্রতিষ্ঠানগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, সরকার ছাড়াও স্কুল-কলেজের ম্যানেজিং কমিটির উদ্যোগে শহীদ মিনার তৈরি করা উচিত। তাহলে তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থী সেই শহীদ মিনারে ফুল দিতে এসে ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসগুলো জানতে পারবে। চৌহালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ হজরত আলী মাস্টার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসার অব্যাহত রাখতে এবং দেশ উন্নয়নের লক্ষে এবং নতুন প্রজন্মের জন্য প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করতে হবে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবসে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনার খুবই দরকার। এছাড়া কোন দিবস কি এবং এর তাৎপর্য কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরার পাশাপাশি প্রত্যেক উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণসহ শহীদদের নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা দরকার।এমএএস/জেআইএম