কুষ্টিয়ায় সংখ্যালঘু আহমদিয়া সম্প্রদায়কে সামাজিকভাবে বয়কট করেছেন স্থানীয়রা। শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেয়াসহ কাফের আখ্যা দিয়ে সব ধরনের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ করেছেন আহমদিয়া সম্প্রদায়। তবে স্থানীয়দের দাবি, ধর্মীয় অপব্যাখ্যা দেয়ায় মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। একসঙ্গে মিলে মিশে নামাজ পড়ার কথা বললেও তারা আলাদা নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করেছে। প্রশাসন সমঝোতা বৈঠক করলেও সংকটের সমাধান হয়নি।পরিবারগুলো বলছে, ১৯৯২ সাল থেকে আহমাদিয়া সম্প্রদায় কার্যক্রম শুরু করে। সম্প্রতি সেখানে তারা একটি মসজিদ তৈরির উদ্যোগ নিলে স্থানীয়রা বিরোধিতা করে। এরপর ইসলামী ওয়াজ মাহফিলে সম্প্রদায়ের মানুষকে কাফের ঘোষণা দেয়া হয়। পরে সামাজিকভাবে বয়কট করে উচ্ছেদের ঘোষণা দেয় স্থানীয় আলেমরা। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা মহিষাখালী গ্রামের আহমাদিয়া সম্প্রদায়ের মৃত রজব আলী মন্ডলের ছেলে ফরিদ আহম্মেদ বলেন, ইতোপূর্বে আমরা জুমার নামাজ পড়তে প্রায় ১২ কি.মি. দূরত্বে ভেড়ামারা সাতবাড়িয়াস্থ উত্তর ভবানীপুর আহমদিয়া মসজিদে যেতাম। অনেক দূর হওয়ায় কষ্ট লাঘবে আমার নিজ বাড়িতে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করি। এতে স্থানীয় মুসল্লিরা বাধা দিয়ে তাদের সঙ্গে একই মসজিদে একই ইমামের পিছনে নামাজ পড়ি। তাদের কথা উপেক্ষা করে নিজের বাড়িতেই নামাজ ঘর করে নামাজ পড়ার উদ্যোগ নেয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে হুজুর ডেকে প্রকাশ্য সভা করে আমাদের উচ্ছেদ করাসহ নানা হুমকি দেয়। পাশাপাশি আমাদের সামাজিকভাবে একঘরে করার ঘোষণাও দেয়। স্থানীয় ব্র্যাক স্কুলের শিক্ষক রঞ্জনা খাতুন অভিযোগ করেন, হুজুররা এলাকার সবাইকে বলেছে ব্র্যাক স্কুলের শিক্ষক রঞ্জনা খ্রিষ্টান হয়ে গিয়েছে ওর কাছে বাচ্চারা পড়লে সবাই খ্রিষ্টান হয়ে যাবে। সে কারণে এলাকার সবাই মিলে তাকে ওই স্কুল থেকে বের করে দিয়ে অন্য একজন শিক্ষককে নিয়োগ দিয়েছে। একইভাবে সাগরখালী কলেজের একাদশ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী রিনা খাতুন বলেন, স্থানীয়দের নিষেধাজ্ঞার কারণে কোনো ভ্যান বা অটো তাকে বহন করছে না। সে কারণে আমি কলেজেও ঠিকমতো যেতে পারছি না। অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় এলাজ মন্ডলের ছেলে আনিছ মুঠোফোনে বলেন, এসব অভিযোগ সব মিথ্যা। আমরা কেবল একসঙ্গে মিলে মিশে নামাজ পড়ার কথা বলেছি মাত্র। যুবলীগ নেতা জিয়া বলেন, ধর্মীয় অপব্যাখ্যাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল আমরা সেটা মিটিয়ে দিয়েছি।এসব ঘটনার পর এনিয়ে থানায় সমঝোতা বৈঠকও হয়েছে দুইবার। শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও দুইপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান, স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন। চিথলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বলেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উভয়পক্ষের কথা শুনে পরিস্থিতি শান্ত করেছি। সেখানে জমিতে সেচ না দেয়া, দোকান-পাটে সদায় না দেয়া বা যানবাহনে চড়তে বাধা দেয়ার ঘটনা আর ঘটবে না বলে সবার আশ্বাস্ত করেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, ছোট-খাটো বিষয়কে গণমাধ্যম অনেক বড় করে ফেলেছে। আহমদিয়া সম্প্রদায়ের দাবি, ২০০৩ সালে ভেড়ামারার উত্তরভবানীপুর ও দৌলতপুরের আলারদর্গায় একইভাবে আহমদিয়া সম্প্রদায়ককে বয়কট করা হয়েছিল। পরে প্রশাসনিক সহযোগিতায় সম্যসার সমাধান হয়েছিল। আল-মামুন সাগর/এআরএ/পিআর