দেশজুড়ে

চার বছরেও শুরু হয়নি রাজগঞ্জ ট্র্যাজেডির বিচার

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের রাজগঞ্জ ট্র্যাজেডির চার বছর পূর্ণ হলো আজ ২৮ ফেব্রুয়ারি। এ ঘটনার চার বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শুরু হয়নি বিচার। আদৌ ন্যায় বিচার পাবে কিনা তা নিয়ে হতাশায় রয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।  ২০১৩ সালের এই দিনে মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে নায়েবে আমীর দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় দেয়ার পরপরই নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের রাজগঞ্জ ইউনিয়নে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ীঘর, মন্দিরের ধ্বংসযজ্ঞে নামে জামায়াত-শিবির ও তাদের দোসররা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার রাজগঞ্জের পরিস্থিতি এখন অনেকটা স্বাভাবিক। এলাকার হিন্দু  পরিবারগুলো নিয়মিত তাদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান চালিয়ে যাচ্ছেন। বাহ্যিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও মনে যে ক্ষত রয়েছে তা মুছে যায়নি। এখনো ঘুমের ঘোরে দুঃসহ স্মৃতির কথা মনে ওঠে। বিশেষ করে বসত ঘরে লাগানো পোড়া টিনগুলো তাদের চোখের সামনে এখনো স্বাক্ষী হয়ে আছে।ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, চারশ বছর পেরিয়ে গেলেও তারা সে দুঃসহ স্মৃতির কথা ভুলতে পারবে না। ঘটনার দিন সন্ত্রাসীরা পানি খাওয়ার জন্য একটি গ্লাস পর্যন্ত রাখেনি। সব আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পরণের কাপড় নিয়ে কোনো রকমে দৌড়ে তারা প্রাণে বেঁচেছিলেন। সেসময় অনেকে এসে নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তার বেশিভাগই বাস্তবায়ন হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া ত্রাণের টিন ও বাঁশের খুঁটির দোচালা ঘরের মধ্যে তাদের বাস।সার্বজনিন হরিসেবা মন্দিরের সভাপতি শান্তি রঞ্জন বনিক জাগো নিউজকে বলেন, এ বর্বোরিচ ঘটনার বিচার আদৌ হবে কি? যাদেরকে আসামি করা হয়েছে তারা সবাই উচ্চ আদালত থেকে জামিনে এসে এলাকায় বীরদর্পে ঘোরাফেরা করছে।রাজগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিুর রহমান চৌধুরী সেলিম জানান, এ সরকারের আমলে যদি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর এ ন্যাক্কারজনক ও বর্বোরচিত ঘটনার বিচার না হয় তাহলে পরে হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তাই তিনি দ্রুত বিচার আইনে এ মামলার বিচার সম্পন্ন করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।নোয়াখালী জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর এটি এম মহিবউল্যা মামলার বিচার কাজ শুরু না হওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, এ ঘটনার পর পরই থানায় কয়েকশ লোককে আসামি করে মামলা হয়। পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে ১১২ জনকে আসামি করে আদালতে বিস্ফোরক ও দণ্ডবিধি ধারায় দুটি চার্জশিট দাখিল করে।এর মধ্যে বেশির ভাগ আসামিই উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়েছেন এবং কয়েকজন পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে পত্রিকায় গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন ধার্যের তারিখ আগামী মার্চ মাসের ২২ তারিখে। পলাতক আসামিরা ওই তারিখে হাজির না হলে মামলার স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং সাক্ষগ্রহণ শুরু হবে।  এদিকে, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রানা দাস গুপ্ত এ মামলার দ্রুত বিচার দাবি করে জাগো নিউজকে বলেন, এ ঘটনার পর মামলা, আসামি ধরা সব ছিল `আইওয়াশ`। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালেল ২৮ ফ্রেব্রুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে নায়েবে আমীর দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় দেয়ার পরপরই নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের রাজগঞ্জ ইউনিয়নে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ীঘর, মন্দিরের ধ্বংসযজ্ঞে নামে জামায়াত-শিবির ও তাদের দোসররা। এসময় তারা রাজগঞ্জের হিন্দু সম্পদ্রায়ের বিভিন্ন বাড়ির ৩০টি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে এবং ৩৭টি বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে। পাশাপাশি ৬টি মন্দিরে ও অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায়। এছাড়া ৮টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও হামলা করে। এফএ/আরআইপি