দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি থেকে দীর্ঘ কয়েক বছর পর মালবাহী ট্রেনে পাথর পরিবহন শুরু হয়েছে। গত মার্চ মাসে দুইবার এবং এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে ট্রেনে পাথর পরিবহন করা হয়েছিল। শুক্রবার বাংলাদেশ রেলওয়ের মালবাহী ট্রেনের ৫৮টি ওয়াগন মধ্যপাড়া খনি থেকে পাথর পরিবহন করেছে। খনি থেকে প্রায় ৬২ হাজার মে. টন পাথর মালবাহী ট্রেনের মাধ্যমে পরিবহন করা হবে বলে মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লি. এর একটি সূত্র জানায়।খনির একটি সূত্র জানায়, মধ্যপাড়া পাথর খনি থেকে কম পরিবহন খরচে পাথর পরিবহনের জন্য পার্বতীপুর-সান্তাহার লাইনের ভবানীপুর স্টেশন থেকে মধ্যপাড়া খনি পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার রেল লাইন নির্মাণ করা হয় ২০০৭-২০০৮ সালে। মধ্যপাড়া পাথর খনি থেকে দেশের চাহিদা মতো পাথর উত্তোলন না হওয়ার ফলে পাথর বিক্রি কম থাকায় ট্রেনের মাধ্যমে পাথর পরিবহন ছিল না বললেই চলে। খনি থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর প্রায় সাত বছর হলেও আশানুরূপ উৎপাদন হয়নি। তাই দেশে পাথরের চাহিদা থাকলেও খনি কর্তৃপক্ষ চাহিদা মতো পাথর সরবরাহ করতে না পারায় পাথরের বিক্রি ছিল কম। তাই ট্রেনে পাথর পরিবহন না হওয়ায় রেল লাইনটি প্রায় অচল অবস্থায় পড়ে ছিল। খনি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকার গত ২০১৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর মধ্যপাড়া পাথর খনিটিকে অব্যাহত লোকসানের হাত থেকে বাচাঁতে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে বিদেশি একটি কোম্পানির সমন্বয় করার উদ্যোগ নেয়। এরই ফলস্বরূপ বেলারুশ সরকারের সহযোগিতায় গড়া জার্মানিয়া-ট্রাস্ট কনসোর্টিয়ামের (জিটিসি) সাথে ছয় বছর মেয়াদি খনির পরিচালনা, উৎপাদন এবং রক্ষানাবেক্ষণ চুক্তি করে। বর্তমানে খনি থেকে প্রতিদিন তিন শিফটে প্রায় চার হাজার মেট্রিকটন পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। খনি কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২০১৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত সর্বশেষ ৫৪ হাজার মেট্রিকটন পাথর মালবাহী ট্রেনে পরিবহন করা হয়। বজ্রপাতে ট্রেনের ওজন স্কেলের ডায়নামিক সিস্টেম বিকল হয়ে গেলে বর্তমানে খনির উৎপাদন কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া-ট্রাস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) বিকল্প পথে ওয়াগন স্কেল সচল করে ট্রেনে পরিবহনকৃত পাথর ওজন করছে। তারা বিদেশি বিশেষজ্ঞ দিয়ে ডায়নামিক পদ্ধতি চালু করার চেষ্টা করছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার ১০০ মেট্রিক টন পাথর বিক্রি হচ্ছে যা সড়কপথে পরিবহন করা হচ্ছে। শুক্রবার ট্রেনে দুই হাজার মেট্রিকটন বিক্রিত পাথর পরিবহন করা হয়েছে। বর্তমানে খনিতে বিক্রয়যোগ্য প্রায় পাঁচ হাজার মেট্রিকটন পাথর মজুত আছে বলে সূত্র জানায়। এ ব্যাপারে মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবুল বাশার জাগো নিউজকে জানান, জার্মানিয়া-ট্রাস্ট কনসোর্টিয়ামের (জিটিসি) খনির পরিচালনা, উৎপাদন এবং রক্ষানাবেক্ষণ চুক্তির পর থেকে পাথরের উৎপাদন প্রায় পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় খনিটি আশার আলো দেখছেন। এমজেড/বিএ/পিআর