দেশজুড়ে

শিশুর কবর বিদ্যুতায়ন : এলাকায় তোলপাড়

একান্ন দিনের নবজাতক এক শিশুর মৃত্যু ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটিকে দাফনের পর তার কবরটি ঘিরে বিদ্যুৎ সংযোগ করে রাখায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা নটাবাড়ী গ্রামে এই ঘটনা ফাঁস হয়ে পড়লে উপজেলা জুড়ে শনিবার তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে বাবা কর্তৃক ওই শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার ঘটনা ধামাচাপা দিতে জামায়াত শিবিরের একটি মহল উঠে পড়ে লেগেছে। ফলে ভয়-ভীতি ও হুমকির কারণে ওই নবজাতকের অসহায় মা-সহ তার পরিবার থানায় অভিযোগ করতে পারছে না।এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সূত্রের অভিযোগে জানা যায়, ডিমলা সদর ইউনিয়নের নটাবাড়ী গ্রামের ইছামুদ্দিনের ছেলে অপিনুর রহমানের (২৫) সাথে দেড় বছর আগে বিয়ে হয় একই উপজেলার পশ্চিম শালহাটী গ্রামের জহিদুল ইসলামের মেয়ে পারভিনের (২০)। পারভিনের শ্বশুর বাড়ির সদস্যরা জামায়াত শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। পারভিনের স্বামী অপিনুর নিজেও উপজেলা জামায়াতের সক্রিয় সদস্য। তার ছোট ভাই অপিয়ার রহমান ছাত্রশিবিরের ডিমলা উপজেলার সাধারণ সম্পাদক।সূত্র মতে, অপিনুর রহমানের সঙ্গে একটি মেয়ের পরকিয়া প্রেমের কারণে স্ত্রী পারভিনের বিবাদ লেগে থাকতো। এমন কি পারভিনের সঙ্গে বিয়ে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত পর্যন্ত নেয় অপিনুর। এ অবস্থায় পারভিন অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে গর্ভের সন্তান নষ্টের জন্য পারভিনকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন চালায় স্বামী। এ অবস্থায় পারভিন আশ্রয় নেয় তার বাবার বাড়িতে। সেখানে চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি পারভিন পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়। সেখান থেকে গত ১৬ মার্চ অপিনুর তার স্ত্রী পারভিনকে নির্যাতন করবে না মর্মে ওয়াদা করে নবজাতক সন্তানসহ তার বাড়িতে নিয়ে যায়।অভিযোগ মতে, গত ২৩ মার্চ গভীররাতে অপিনুর রহমান স্ত্রী পারভিনকে গোয়াল ঘরে আটকে রেখে তাদের পুত্র সন্তান বাবুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এ ঘটনার পরদিন তাদের সন্তান অসুস্থ্য হয়ে মারা গেছে বলে এলাকায় প্রচার চালানো হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার অনেকেই জানায়, শিশুটির মৃত্যুর খবরে পারভিনের বাবার বাড়ির লোকজন লাশ তাদের গ্রামে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। এঘটনায় ডিমলা উপজেলা ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আমিনুর রহমানসহ ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীরা এসে লাশ আটক করে শিশুটিকে তড়িঘড়ি করে দাফন করে। এমনকি দাফনের পর কবরটি তাৎক্ষণিকভাবে বাঁশের বেড়া ঘিরে দিয়ে সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ করে রাখা হয়েছে। যা ঘটনার ১৯ দিন অতিবাহিত হলেও এখনও কবরটি বিদ্যুতায়ন অবস্থায় রয়েছে।শনিবার সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে দেখতে পায় সন্তান হারা অসহায় মা পারভিন তার স্বামীর বাড়িতেই জিম্মি দশায় রয়েছে।আমাকে গোয়াল ঘরে আটক রেখে আমার স্বামীসহ পরিবারের লোকজন আমার শিশুকে হত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই। আমার স্বামীসহ পরিবারের লোকজন আমাকে নির্যাতন করতো। শনিবার সকালে অপিনুর রহমানের স্ত্রী পারভিন আক্তার সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন । তবে এ ঘটনা ফাঁস হয়ে যাবার পর পারভিনের স্বামীসহ পরিবারের লোকজন আত্মগোপন করেছে।সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে ওই বাড়ির নাম প্রকাশ না করে বেশ কিছু নারী জানায়, পারভিনের বাবা শিশুটির লাশ তাদের বাড়িতে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। তাই এখানে দাফনের পর লাশ যাতে চুরি না হয় সে জন্য কবরে বিদ্যুৎ সংযোগ করে রাখা হয়েছে।পারভিনের বাবা জহিদুল ইসলাম জানায়, বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন অজুহাতে প্রতিনিয়ত পারভিনকে নির্যাতন করতো। গত ২৩ মার্চ আমার নাতীকে তারা হত্যা করে দ্রুত লাশ দাফন করে। লাশ দাফনের সময় কাউকে দেখতে দেয়া হয়নি।তবে গ্রামবাসীর দাবি শিশুটির লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করলেই মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য বেড়িয়ে আসবে। ডিমলা উপজেলা ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আমিনুর রহমান এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের বলেন, ওরা (পারভিনের স্বামী) আমার আত্মীয়। শিশুটি রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে খবর পেয়ে দাফনে অংশ নিয়েছি। এর পেছনে কি আছে তা জানি না।এমএএস/আরআই